ঢাকা সংবাদদাতা: মায়ের সঙ্গে দিয়া খানম মীমের শেষ কথা ছিল ‘খোদা হাফেজ’। এর পর মেয়ের সাথে আর কোনো কথা হয়নি রোকসানা বেগমের।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাখালীতে মীমের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের কথা হয়। কথা বলার সময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মীমের জন্য তার মহাখালীর বাসায় চলছে এখন শোকের মাতম। দেয়া হচ্ছে কোরআন খতম।
কাঁদতে কাঁদতে রোকসানা বলেন, মীম খুব মেধাবী ছিল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। সকালে ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে কলেজের উদ্দেশে রওনা হতো। শত অভাবের সংসারেও ওর কথাবার্তা, চলাফেরা ও পোশাকের মধ্যে ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। কেউ ওকে দেখে বলবে না মীম সামান্য একজন চালকের মেয়ে।
মীমের মা বলেন, জীবনে বড় হওয়ার প্রচণ্ড স্বপ্ন ছিল ওর ভেতরে। শত অভাবে কখনো মুখের হাসিটা মলিন হতো না। সারা দিন না খেয়ে থাকলেও কেউ বুঝতে পারত না। শান্ত ছিল আমার মেয়ে। বড় আদরের সে। ওর মধ্যে লুকিয়ে আছে ব্যারিস্টার হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু পূরণ হলো না।
মায়ের সঙ্গে মীমের শেষ কথা খোদা হাফেজ ছিল উল্লেখ করে এই মা বলেন, মীমকে যেদিন বাসচাপা দেয়া হয় ওই দিন বাসা থেকে বের হওয়ার সময় খোদা হাফেজ বলে বিদায় নিল। সেই যে গেল আর ফিরে এলো না। এই কথা বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
কান্নাজড়িত ভারি কণ্ঠে রোকসানা বলেন, মীমের মৃত্যুর পর থেকে এখন আর ঘুমাতে পারেন না তিনি। চেতন বা অবচেতন অবস্থায় মীমের মা ডাক শুনতে পান তিনি।
গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। মারা যাওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মীম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম।















