টাওয়ার হ্যামলেটস চিলড্রেন সার্ভিসের ইন্টারগ্রেটেড আর্লি ইয়ার্স সেলিব্রেশন

533

ওয়ানবাংলানিউজ: প্রায় দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে ইন্টারগ্রেটেড আর্লি ইয়ার্স (আই ই ওয়াই) উদযাপন করেছে টাওয়ার হ্যামলেটস চিলড্রেন সার্ভিসের ইন্টারগ্রেটেড আর্লি ইয়ার্স সার্ভিস।
বৃহস্পতিবার মাইল এন্ডের ইকোলজি প্যাভিলিয়নে এ উপলক্ষে বসেছিলো প্যারেন্টস ও পার্টনার্স এজেন্সি প্রতিনিধিদের মিলন মেলা। যেসব প্যারেন্টস ও কেয়ারার ইন্টারগ্রেটেড আর্লি ইয়ার্স সার্ভিসের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে দিয়েছেন স্বেচ্ছা শ্রম এবং নিয়েছেন ট্রেনিং, তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয়।

ইন্টারগ্রেটেড আর্লি ইয়ার্স সার্ভিসের প্যারেন্টিং এন্ড এডাল্ট এডুকেশন কোর্ডিনেটর সৈয়দা পাশা ও জোবায়ের আহমদ এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস। বিশেষ অতিথি ছিলেন বারার ওয়ার্ক এন্ড ইকোনমিক ডেভোলাপমেন্ট বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলার মতিনুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন এডুকেশন এন্ড পার্টনারশীপ সার্ভিসের প্রধান ক্রিসটিন মেগিনিস, পার্টনার এজেন্সির পক্ষে টেকলিং পভার্টি প্রোগ্রামের ম্যানেজার এলি কারসো, টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনী ও সিটি অফ লন্ডনের জব সেন্টার প্লাসের বারা রিলেশন্সশিপ ম্যানেজার
স্টিফেন হানশো এবং স্ট্রেঙ্গথট্রেনিং ফ্যামিলিজ প্যারেন্টিং টিমেরকমিউনিটিজ ম্যানেজার হুমায়ুন কবির। সমাপনি বক্তব্য রাখেন ইন্টারগ্রেটেড আর্লি ইয়ার্স সার্ভিসের প্রধান পলিন হর।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মেয়র জন বিগস এমন একটি সুন্দর অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আই ই ওয়াই’র প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে অভিনন্দন জানান সেইসব প্যারেন্টস ও কেয়ারারদের, যারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সফলতার স্বীকৃতি পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইন্টারগ্রেটেড আর্লি ইয়ার্স সার্ভিসের মত কাজ ও প্রজেক্টগুলোকে আমরা সব সময় গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কারন এসব প্রজেক্টের সফল বাস্তবায়ন স্থানীয় কমিউনিটির উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপক বাজেট কাটের পরও টাওয়ার হ্যামলেটস এমন প্রজেক্টগুলোর প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে বলেও উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করেন মেয়র।

অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক পরিবারের উপস্থিতির প্রশংসা করে কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলার মতিনুজ্জামান বলেন, আর্লি ইয়ার্স সার্ভিস প্রজেক্টের মত প্রজেক্টগুলোর প্রশিক্ষনের সুযোগ নিয়ে শ্রমবাজারের কাছাকাছি যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন প্যারেন্টসদের জন্য খুবই জরুরী।
এডুকেশন এন্ড পার্টনারশীপ সার্ভিস প্রধান ক্রিসটিন মেগিনিস বলেন, পিতামাতা হলেন সন্তানের প্রথম শিক্ষক। শিশুকাল থেকেই বাচ্চাদের সাথে তাদের সম্পৃক্ত হওয়া উচিত। ইন্টারগ্রেটেড আর্লি
ইয়ার্স সার্ভিসের প্রজেক্টগুলো সন্তানের উন্নয়নে সম্পৃক্ত হতে প্যারেন্টসদের আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করে, শিশু উন্নয়নে ভূমিকা রাখা তাদের জন্য আরও সহজ করে তুলে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে আই ই ওয়াই সার্ভিস প্রধান পলিন হর উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানটি সফল করার জন্য অতিথি, পার্টনার্স ও প্যারেন্টসের প্রতি ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আন্তবিভাগ, থার্ড সেক্টর ও প্রাইভেট সেক্টরের শক্তিশালী পার্টনারশীপ ওয়ার্কের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগনের জন্য উন্নত ও টেকসই সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে চায় ইন্টারগ্রেটেড আর্লি ইয়ার্স সার্ভিস।
প্যারেন্টস ভলান্টিয়ার রুজিনা বেগম চিলড্রেন’স সেন্টারে তাঁর কর্মময় দিনগুলোর গল্প শুনান অনুষ্ঠানে। ছোট ছোট কাজ করতে গিয়ে কর্মীদের সহায়তা কিভাবে তাঁর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে এর ব্যাখ্যা দেন তিনি তাঁর গল্পে।

উল্লেখ্য, ইন্টারগ্রেটেড আর্লি ইয়ার্স সার্ভিসের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে শিশুদের উন্নয়নে যেসব প্যারেন্টস তাদের সময় উৎসর্গ করেছেন তাদের স্বীকৃতি দিতেই
আয়োজন করা হয় ইন্টারগ্রেটেড আর্লি ইয়ার্স (আই ই ওয়াই) সেলিব্রেশন অনুষ্ঠান। প্যারেন্টিং, এডাল্ট এডুকেশন কোর্স, ভলান্টিয়ারিং ও প্যারেন্ট ফোরামের সাথে জড়িত থেকে যারা কাজ করেছেন তাদের হাতে এচিভমেন্ট সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয় অনুষ্ঠানে।
আই ই ওয়াই সার্ভিসের সাথে নিজেদের পার্টনারশীপ সম্পর্কের প্রমান দিতে প্রায় বিশটি এজেন্সি ছাড়াও বিপুল সংখ্যক প্যারেন্টস অনুষ্ঠানে অংশ নেন।