কনজারভেটিভ-ডিইউপি সমঝোতা বাতিলের দাবিতে ৩ লাখ মানুষের স্বাক্ষর

2542

ওয়ানবাংলা নিউজ: বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) সঙ্গে সরকার গঠনের যে চুক্তি করেছেন তা বাতিলের দাবিতে পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ। মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যে এই পরিমাণ মানুষের এ আবেদন ভাবিয়ে তুলেছে সমাজ বিজ্ঞানীদের। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

এতে বলা হয়, ওই আবেদনে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’কে পদত্যাগের আহ্বানও জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের ফল পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে ছুটে যান বাকিংহাম প্যালেসে। সেখানে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সাক্ষাত করেন তিনি। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে ফিরে ঘোষণা দেন যে, তিনি একটি মাইনরিটি সরকার গঠন করবেন। এক্ষেত্রে আস্থা ও সমর্থন পাবেন উত্তর আয়ারল্যোন্ডের রাজনৈতিক দল ডিইউপি থেকে। মাইনরিটি সরকার মানে হলো, সরকারের সঙ্গে থাকা দলটি প্রতিটি ইস্যুতে সরকারকে সমর্থন করবে। কিন্তু ডিইউপি দলের রয়েছে বিতর্কিত নীতি। তারা গর্ভপাত বিরোধী। এলজিবিটি অধিকারের বিরোধী। জলবায়ু পরিবর্তন বিরোধী। এ ছাড়া ইউনিয়নিস্ট উগ্রপন্থিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকার অভিযোগ আছে।

তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনে তেরেসা মে’ সরকারের উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছেন অনেক রাজনৈতিক ভাষ্যকার। তারা বলেছেন, এতে দেশের শান্ত্রি প্রক্রিয়া অস্থিতিশীল হবে। ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে এরই মধ্যে এ বছরের শুরুতে এমনিতেই দেখা দিয়েছে টান টান সম্পর্ক। এরই মধ্যে বৃটেন ও আইরিশ সরকার ডিইউপি ও আইরিশ জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে সমঝোতার একটি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো উত্তর আয়ারল্যান্ডে একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এক্ষেত্রে ক্ষমতা ভাগাভাগির যে ফরমুলা দেয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে যদি ফার্স্ট মিনিস্টার হন ইউনিয়নিস্ট তাহলে ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার অবশ্যই হবেন জাতীয়তাবাদী। জানুয়ারিতে যখন চুক্তি থেকে সিন ফেইন নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন তখনই এ উদ্যোগ স্থগিত হয়ে পড়েছিল। সিন ফেইন বলেছিলেন, ফার্স্ট মিনিস্টার আরলেন ফস্টার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি ডিইউপির সঙ্গে কাজ করবেন না। কিন্তু নিজের অর্থমন্ত্রীর কেলেঙ্কারির কারণে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান মিসেস ফস্টার। নিউ লেবার-এর অ্যালেস্টার ক্যাম্ববেল বলেছেন, সরকার যাদের সঙ্গে মধ্যস্থতা করছে তাদেরকে নিয়েই সরকার গঠন করা হচ্ছে। এতে আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়া হুমকিতে পড়বে। এর জন্য দায়ী থাকবেন তেরেসা মে।

বিবিসির কোয়েশ্চেন টাইম অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তেরেসা মে দ্রুততার সঙ্গে এবং ঢিলেঢালাভাবে ব্রেক্সিট নিয়ে কাজ করছেন। মার্গারেট থ্যাচারের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল একক বাজার। সেই বিষয়ে তেরেসা মে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছেন। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ড ইস্যুতে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের। তা নিয়েও তিনি খেলা করছেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব নিয়ে কাজ করছেন।