ঢাকা সংবাদদাতা: রাজধানীর শাহবাগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের রাতভর সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় সংবাদকর্মী, পুলিশসহ অন্তত দেড়’শতাধিক আহত।
সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কার দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে, রাজধানীর শাহবাগসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। রাত দেড়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন দেয় শিক্ষার্থীরা।
থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরো ক্যাম্পাসে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯ জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
এর আগে, জাহাঙ্গীর কবির নানক জানান আন্দোলনকারীদের সাথে আজ সকাল ১১টায় আলোচনায় বসবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় আটক করা শিক্ষার্থীদের মুক্ত করে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতরা সোমবার বিকেল ৩টায় অবস্থান নেয় শাহবাগ মোড়ে। প্রায় ৫ ঘন্টা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ পয়েন্টে অবস্থান নেয়ায় আশপাশে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে আন্দোলনরতদের দাবি কোটা পদ্ধতি বৈষম্যমূলক। দফায় দফায় পুলিশের পক্ষ থেকে রাস্তা থেকে সরে যেতে বললেও আন্দোলনরতদের দাবি চলমান থাকে। তারা জানান, সংসদে অধিবেশন থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত রাস্তা ছাড়বেন না।
রাত ৮টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরাতে লাঠিপেটা শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে যান চলাচলও শুরু হয়।
পরে, আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় ক্যাম্পাসের চারুকলা, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। রাস্তায় আগুন দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এ পর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর রাতভর দফায় দফায় চলতে থাকে এ সংঘর্ষ।
কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৫৫ শতাংশই কোটা থেকে পূরণ করার বিধান রয়েছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কোটায় কাউকে পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে চাকরি দেয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।















