ওয়ানবাংলানিউজ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভুল বা মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করলে এখন থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছে তারেক রহমানকে আইনী সহায়তাকারি প্রতিষ্ঠান লন্ডনিয়াম সলিসিটার্স। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান তারেক রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার একেএম কামরুজ্জামান ও সলিসিটার্স ডেভিড রিক্টার। এসময় বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য যুবদল সভাপতি রহিম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবকদল সভাপতি নাসির আহমদ শাহীন, জাসাসের সাবেক সভাপতি এম এ সালাম সহঅন্যান্য আইনজীবিগন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় বেশ কিছুদিন যাবত তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি গোষ্ঠী ধারাবাহিক মিথ্যা সংবাদ পরিবেশ করে আসছে। এর প্রেক্ষিতে তারেক রহমানের আইনজীবিগন সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের‘ বাংলা ইনসাইডার, আমাদের সময়.কম, ভারতের লুকইস্ট, টাইম অব ইন্ডিয়াসহ বেশ কিছু পত্রিকায় “তারেকের স্ত্রী, কন্যাসহ বিদেশে তারেক রহমানের পরিবারের সম্পদ রয়েছে উল্লেখ করে ব্রিটেনের বিখ্যাত ল’ফাম বার্জেস সালমানের অন্যতম কর্ণধার ট্যাক্স ল’য়ার নাইজেল পপোলওয়েলকে জড়িয়ে বিভ্রান্তমূলক সংবাদ প্রচার করলে আইনগত ব্যবস্থারনেন। এরই প্রেক্ষিতে ব্রিটেনের ল’ফাম বার্জেস সালমানের অন্যতম কর্ণধার ট্যাক্স ল’য়ার নাইজেল পপোলওয়েল এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদটিকে মিথ্যা হিসেবে বিজ্ঞপ্তি দিলে বেশ কিছু সংবাদপত্র ইতিমধ্যে তারেক রহমানের স্ত্রী কন্যাকে জড়িয়ে প্রচারিত সংবাদ সরিয়ে ফেলে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় কিছু কিছু অনলাইন পোর্টাল সরকারের মদদে এসব মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে জনমতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা এসবের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী প্রদক্ষেপ নেয়ার ঘোষনা দেন।
এদিকে লিখিত সংবাদ সম্মেলনে যা বলা হয়
বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে বিএনপি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং বিশেষ করে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে দেশে বিদেশে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে জনমনে বিরূপ ধারণা তৈরির অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদশে ‘বাংলা ইনসাইডার’ নামে নতুন একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল গত প্রায় একবছর ধরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এবং শেখ হাসিনার পক্ষে প্রায় প্রতিদিন একটি করে নিউজ প্রচার করছে। দেখা গেছে, বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভার্সনে সৈয়দ বোরহান কবির নাম জনৈক সাংবাদিকের এই নিউজ পোর্টালটিতে তারেক রহমানের বিপক্ষে কিংবা শেখ হাসিনার পক্ষে সকল নিউজ মিথ্যা মনগড়া ও ভুয়া। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের দেশে নানাঅজুহাতে ডজন ডজন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দিলেও ফেইক নিউজে ভরা এই পোর্টালটি তারা বন্ধ করছেনা। কারণ ক্ষমতাসীন সরকার পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে এই নিউজ পোর্টালটিতে বিএনপি কিংবা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একটি নিউজ প্রচার করে। তারপর দেশের অন্যান্য মিডিয়াতেও ওই মিথ্যা নিউজটি প্রচার ও প্রকাশের জন্য চাপ সৃষ্টি করে।
এই নিউজ পোর্টালটিতে ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর ‘বিদেশে তারেক রহমানের পরিবারের সম্পদ রয়েছে’ মর্মে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট একটি সংবাদ প্রচার করা হয়। রিপোর্টের সোর্স হিসেবে উল্লেখ করা হয় ব্রিটেনের নাম করা ট্যাক্স ল’য়ার নাইজেল পপোলওয়েল এর নাম। তবে দেশের জনগণের কাছে ‘বাংলা ইনসাইডার’ নামক এই নিউজ পোর্টালটির ক্রেডিবিলিটি না থাকায় এটি কেউ বিশ্বাস করেনি। কারণ জনগণ জানে, ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে বোরহান কবিরের এই নিউজ পোর্টালটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের ইমেজ ক্ষুন্ন করতে বরাবরই মিথ্যা ও মনগড়া রিপোর্ট তৈরী করে প্রচার ও প্রকাশ করে আসছে ।
‘বাংলা ইনসাইডার’ নামক নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত ভুয়া রিপোর্টটি মাস দুয়েক পর প্রায় হুবহু গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে ভারতের কলকাতার সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক তার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘লুকইস্ট’ এ ‘নিউ লাইট অন জিয়া ওয়েলথ ‘ শিরোনামে প্রকাশ করে। ওই নিউজেও সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয় ব্রিটেনের নাম করা ট্যাক্স ল’য়ার ‘নাইজেল পপোলওয়েল’ এর নাম। সুবীর ভৌমিক কলকাতা থেকে প্রচারিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ ‘লুকইস্ট’ এর এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর। ‘লুকইস্ট’ এ সংবাদটি প্রচার হওয়ার পর একই তারিখে ওই রিপোর্টটি বাংলাদেশে ‘দৈনিক আমাদের সময়’ পত্রিকা প্রকাশ করে।
এরপর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনজীবী হিসেবে আমরা ব্রিটেনের বিখ্যাত ল’ফার্ম বার্জেস সালমানের অন্যতম কর্ণধার ট্যাক্স ল’য়ার ‘নাইজেল পপোলওয়েল’ এর সঙ্গে তার বরাতে প্রকাশিত এই রিপোর্টগুলোর ব্যাপারে যোগাযোগ করি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তারেক রহমান তাঁর ক্লায়েন্ট নন, তারেক রহমানকে তিনি চেনেন না। এ ধরণের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এমনকি এ ধরণের বিষয়ে তার সঙ্গে কেউ কখনো কথা বলেনি। কথিত অনলাইনে নিউজ পোর্টাল ‘বাংলা ইনসাইডার’ কিংবা ‘লুকইস্ট’ নামক এমন কোনো নিউজ পোর্টাল সম্পর্কেও তার কোনো ধারণা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘নাইজেল পপোলওয়েল’ তার প্রতিষ্ঠান ‘বার্জেস সলমনের’ প্যাডে ‘বাংলা ইনসাইডার’ এ প্রকাশিত নিউজের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে রিপোর্টটি প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য বলেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা রিপোর্টটি প্রকাশের জন্য তারেক রহমানের পক্ষে দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সম্পাদককেও ঢাকা থেকে তারেক রহমানের পক্ষে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। িএরই প্রেক্ষিতে, ‘দৈনিক আমাদের সময়.কম’ পত্রিকার সম্পাদক দুঃখ প্রকাশ করে মিথ্যা রিপোর্টটি এরইমধ্যে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ‘তারেক রহমানের স্ত্রী ও কন্যার কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি’ শিরোনামে পত্রিকাটির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ কারণে গত ২৮ মার্চ স্বনামে একটি রিপোর্ট লিখে নিঃশর্ত দুঃখ প্রকাশ করেন।
বছরের পর বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মনগড়া বানোয়াট রিপোর্ট প্রকাশ ও প্রচার কিংবা বক্তব্য মন্তব্যের মাধ্যমে অপপ্রচার চালালেও সাম্প্রতিক সময়ে এই অপপ্রচারের মাত্রা বেড়েছে। এই অপপ্রচারে ভারতের কলকাতাভিত্তিক কিছু পত্রিকাও আওয়ামী লীগ সরকারের অপপ্রচারের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র কলকাতা এডিশনে গত ৬ মার্চ তারেক রহমানের ফেসবুক পেজের বরাত দিয়ে ‘খালেদা সন স্ল্যাম্স ইন্ডিয়ান ফরেন পলিসি’ শিরোনামে একটি নিউজ প্রচার করে। এ ব্যাপারে তারেক রহমানের আইনজীবী হিসেবে গত ৯ মার্চ দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র কাছে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠাই। দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া কতৃপক্ষ তাদের ভুল বুঝতে পেরে রিপোর্টটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন । দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রিপোর্টটি প্রত্যাহার এবং দুঃখ প্রকাশের নিউজটি তারা ২৭ মার্চ ‘দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র কলকাতা এডিশনে প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, কলকাতার সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক, বাংলাদেশের সৈয়দ বোরহান কবির, পীর হাবিবুর রহমানসহ কিছু সাংবাদিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিএনপি এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সুবীর ভৌমিক তার দেশে সরাসরি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্পর্কে ধারাবাহিক অপপ্রচার শুরু করেছে। সুবীর ভৌমিকের রিপোর্ট দেখে মনে হয় তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি বিশেষ করে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর ইমেজ ক্ষুন্ন করতে পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছেন। এই সুবীর ভৌমিক ২০১৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের একটি পত্রিকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মনগড়া রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, প্রতিটি রিপোর্ট মনগড়া বানোয়াট ও রাজনৌতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এইসকল রিপোর্টের উদ্দেশ্য দেশে বিদেশে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুন্ন করা। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কলকাতার সাংবাদিক সুবীর ভৌমিকের তৎপরতায় এটি মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে তিনি বিএনপি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যা কিছুই করছেন এর পেছনে সরাসরি বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সহযোগিতা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের আইনজীবি বলেন, সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের মুখপাত্র হিসেবে দেশে বিদেশে বিএনপি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্পর্কে অপপ্রচারের দায়িত্ব নিয়েছেন বটে তবে আইনজীবী হিসেবে সকল মিথ্যার বিরুদ্ধে আমার আইনগত ভাবে লড়াই চালিয়ে যাবো। তারেক রহমানের আইনজীবী হিসেবে আমি বলতে চাই, এখন থেকে প্রতিটি মিথ্যা ও বানোয়াট রিপোর্টকে আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে।















