আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তালেবানের গুলিতে আহত হওয়ার পর শান্তিতে নোবেল জয়ী পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাই অবশেষে স্বদেশে ফিরেছেন। খবর বিবিসির।
২০১২ সালে ১৫ বছর বয়সে শিক্ষার দাবিতে আন্দোলন করার জন্য তালেবানদের ভয়াবহ হামলার শিকার হন মালালা ইউসুফজাই। পরে গুরুতর আহত হয়ে ইংল্যান্ড যান তিনি। বর্তমানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মালালা।
তার এই ভ্রমণের খবরটি গোপন রাখা হয়েছে বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে, বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান একজন কর্মকর্তা।
পাকিস্তানি একটি টেলিভিশনে প্রচার হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, মালালা তার পিতামাতাসহ কড়া নিরাপত্তায় ইসলামাবাদের বেনজির ভুট্টো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছেন।
এই সফরটি চারদিনের বলে মালালা ফান্ড গ্রুপের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
তবে তিনি তার পারিবারিক শহর পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিমের সোয়াটে যাবেন কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
২০১২ সালে তালেবান নেতারা তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ৯ অক্টোবর মালালা পরীক্ষা দিয়ে বাসে বাড়ি ফেরার সময় একজন তালেবান বন্দুকধারী সেই বাসে উঠে পড়েন। এই বন্দুকধারী বাসে উঠে মালালা কে তা জানতে চেয়ে বাসের সকল যাত্রীকে মেরে ফেলার হুমকি দেন এবং অবশেষে মালালাকে চিহ্নিত করে তিনটি গুলি ছোড়েন, যার মধ্যে একটি তার কপালের বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে মুখমণ্ডল ও গলা দিয়ে কাঁধে পৌঁছায়।
মালালাকে পেশাওয়ার শহরের একটি সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তার ওপর অস্ত্রোপচার করেন। পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা তার কাঁধ থেকে গুলিটিকে বের করে আনতে সক্ষম হন। গুলির প্রভাবে মস্তিষ্কের কিছুটা অংশ ফুলে উঠেছিল বলে পরদিন পুনরায় ডিকম্প্রেসিভ ক্রেনিয়েক্টমি নামক অস্ত্রোপচার করে তারা মালালার খুলির কিছুটা অংশ অপসারণ করতে বাধ্য হন।
উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রিটেনের বার্মিংহামের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হবার পর থেকে মালালা পরিবারসহ বার্মিংহামেই থাকতে শুরু করেন।















