ব্রিটিশ আইনজীবী কার্লাইলের নিয়োগ দুঃখজনক: আইনমন্ত্রী

802

ঢাকা সংবাদদাতা: বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনি পরামর্শক হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড এলেক্স কার্লাইলের নিয়োগকে দুঃখজনক বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিক্রিয়া জানান আইনমন্ত্রী।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই এই ব্রিটিশ আইনজীবীর। কারণ, বার কাউন্সিলের সদন ছাড়া কেউ মামলায় আইনি সহায়তা দিতে পারেন না।খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদিন জানিয়েছেন, কার্লাইলের মূল কাজ হবে যুক্তরাজ্যে খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে বিবৃতি দেয়া।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শুনেছি লর্ড কার্লাইল জামায়াত নেতাদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন। যদি সেটা সত্যি হয়ে থাকে তাহলে তাকে বিএনপির নিয়োগ দেয়া দুঃখজনক।’

‘তবে জনগণের এটাই বিএনপির কাছ থেকে প্রত্যাশিত ছিল। কারণ, এর আগে তাদের সভায় জামায়াত নেতাদের জন্য দোয়া করা হয়েছিল। তারা যে বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না সেটা অনেক বার প্রমাণ হয়েছে। আবারও সেটা প্রমাণ হলো।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বেগম খালেদা জিয়া আরও ৩৫টি মামলার আসামি। এসব মামলায় খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পরামর্শক হিসেবে কার্লাইলকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি গত ২০ মার্চ জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরই মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতাদের সাজার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে কার্লাইলের দৌঁড়ঝাঁপের বিষয়টি সামনে আসে।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ‘নিরপেক্ষতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার’ জন্য আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি জানান লর্ড কার্লাইল। জেনেভাস্থ ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশন ফর হিউম্যান রাইটস-এর হাই কমিশনার নাভি পিল্লাই বরাবর লিখিত এক চিঠিতে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপও চেয়েছিলেন লর্ড কার্লাইল।

আলবদর নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর না করার দাবিতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের কাছে চিঠিও লিখেছিলেন ব্রিটিশ এই আইনজীবী।

২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন চলাকালে বাংলাদেশে ‘গ্রহণযোগ্য’ সরকার গঠনে উদ্যোগ নিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অনুরোধ করেছিলেন লর্ড কার্লাইল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কার্লাইলকে জামায়াতের লবিস্ট আখ্যা দেয়ার পর গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্রিটিশ এই আইনজীবী।