সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের বিশপ অকল্যান্ডের একটি পুরোনো ভবনের মেঝের নিচ থেকে এক নবজাতকের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। সংস্কার কাজের সময় ১৯১০ সালের একটি সংবাদপত্রে মোড়ানো অবস্থায় কঙ্কালটি পাওয়া যায়। শিশুটির গলায় দড়ি প্যাঁচানো থাকায় এটি পরিকল্পিত হ*ত্যা বলেই ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। শত বছরের পুরোনো এই রহস্যময় ঘটনায় কর্নার আদালত এটিকে হ*ত্যা বলেই নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শিশুটির নাম দিয়েছে ‘বেবি অকল্যান্ড’ এবং সম্প্রতি তাকে সমাধিস্থ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিশপ অকল্যান্ডের ফোর বন্ডগেটের একটি পুরোনো বাড়ি সংস্কার করছিলেন মালিক পিটার মুডি। দোতলার মেঝে তোলার সময় তিনি বাদামি কাগজে মোড়ানো একটি গোল বস্তু দেখতে পান। প্রথমে বল ভেবে তুলে নিলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন এটি একটি শিশুর কঙ্কাল, যার গলায় বাগানের নাইলনের মতো দড়ি প্যাঁচানো ছিল।
ঘটনার পরপরই ডারহাম পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ফরেনসিক নৃবিজ্ঞানী ড. মাইকল জুপেলো কঙ্কালটি সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, এটি ৩৮ থেকে ৪০ সপ্তাহের পূর্ণ গর্ভকালীন এক ছেলে শিশুর কঙ্কাল, যাকে উপুড় করে মেঝের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ডারহাম ও ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ রাসায়নিক ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
শিশুটির দেহ যে সংবাদপত্রে মোড়ানো ছিল, সেটি ছিল ১৯১০ সালের ১৯ জুনের ‘দ্য আম্পায়ার’ পত্রিকার একটি সংখ্যা। তদন্তকারী দলের প্রধান মেল সাদারল্যান্ড জানান, সংবাদপত্র প্রকাশের কাছাকাছি সময়েই সম্ভবত শিশুটিকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে ডিএনএ ডাটাবেস পরীক্ষা করেও তার কোনো পরিবারের সন্ধান মেলেনি।
ডারহাম ও ডার্লিংটনের কর্নার ক্রিসপিন অলিভার জানান, এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগের এই ঘটনার রহস্যভেদ করা ভীষণ কঠিন ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, চরম অসহায় মুহূর্তে শিশুটির গলায় যেভাবে শক্ত করে দড়ি পেঁচানো হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় তাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয়েছিল। আদালতের প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে বিশপ অকল্যান্ড টাউন কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে।
#aknews #onebanglanews #যুক্তরাজ্য #বিশ্বসংবাদ #রহস্য















