লন্ডনের প্রতিটি বরোর জন্য আলাদা সাশ্রয়ী আবাসন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা, নতুন পরিকল্পনা সাদিক খানের

62

লন্ডনের বিভিন্ন বরোর (স্থানীয় কাউন্সিল) জন্য পৃথকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান। নতুন এই নীতি ২০২৮ সালের মার্চ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমানে পুরো লন্ডনের জন্য এককভাবে ৩৫ শতাংশ সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারিত থাকলেও নতুন প্রস্তাবে প্রতিটি বরোর স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় আলাদা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি বরোতে ৩৫ শতাংশ লক্ষ্য বহাল থাকবে, কিছু বরোতে তা ২৫ শতাংশ এবং বাকি বরোগুলোতে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।

এই ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন গত বছর সরকার ও লন্ডনের মেয়র যৌথভাবে নতুন আবাসন প্রকল্পে সাশ্রয়ী আবাসনের ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনে। সে সময় এটিকে আবাসন খাতের সংকট মোকাবিলায় একটি “জরুরি ব্যবস্থা” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

সিটি হলের দাবি, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করলে যত বেশি সম্ভব সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণ নিশ্চিত করা যাবে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লন্ডন নির্ধারিত আবাসন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওয়ান্ডসওয়ার্থ, ল্যামবেথ, সাউথওয়ার্ক, হ্যামারস্মিথ অ্যান্ড ফুলহ্যাম, কেনসিংটন অ্যান্ড চেলসি, ওয়েস্টমিনস্টার, ক্যামডেন, ইজলিংটন, হ্যাকনি, টাওয়ার হ্যামলেটস, সিটি অব লন্ডন এবং রিচমন্ড আপন থেমস—এই বরোগুলোতে সাশ্রয়ী আবাসনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ শতাংশ থাকবে।

অন্যদিকে মার্টন, লুইশাম, গ্রিনিচ, নিউহ্যাম, ওয়ালথাম ফরেস্ট, হারিংগে, ব্রেন্ট ও ইলিং-এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ শতাংশ। বাকি বরোগুলোতে ২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা কার্যকর হবে।

এদিকে, লন্ডনের আবাসন নীতি নিয়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি তিনটি লন্ডন কাউন্সিল সাশ্রয়ী আবাসনের লক্ষ্যমাত্রা কমানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেয়রের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যায়।

টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, সব বরোর জন্য একই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পরিবর্তে পৃথক বরোভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণই যৌক্তিক। তবে নতুন প্রস্তাবেও তিনি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।

তাঁর মতে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ২০ শতাংশের কম লক্ষ্যমাত্রা বহাল রাখার সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দুই বছরে হাজার হাজার সম্ভাব্য সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের সুযোগ হারিয়ে যাবে।

অন্যদিকে অস্থায়ী আবাসনে বসবাসরত ফ্লোরেন্স পেইন বলেন, তিনি আশা করেন একদিন তাঁর পরিবার একটি সামাজিক আবাসন (সোশ্যাল হোম) পাবে। তাঁর ভাষায়, “সরকারের উচিত আবাসন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা এবং বারবার নীতিমালা পরিবর্তন না করা। এতে হাজারো পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।”

লন্ডনের আবাসনবিষয়ক ডেপুটি মেয়র টম কপলি বলেন, ব্রেক্সিটের প্রভাব এবং আগের সরকারের অর্থনৈতিক নীতির কারণে আবাসন নির্মাণ এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। তাই প্রায় এক দশক আগের নীতিমালা বর্তমান বাস্তবতায় কার্যকর নয়।

তিনি জানান, সরকারকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা অনুমোদনের গতি বাড়ানো, বিল্ডিং সেফটি নিয়ন্ত্রকের জট কমানো এবং ডকল্যান্ডস লাইট রেলওয়ে (ডিএলআর) সম্প্রসারণের মতো অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে আবাসন নির্মাণ ত্বরান্বিত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের জাতীয় রাজনীতিতেও আবাসন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আগামী সপ্তাহে লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহাম যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের পর সবচেয়ে বড় কাউন্সিল হাউস নির্মাণ কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এই কর্মসূচির অর্থায়ন কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে নতুন আবাসন নীতি কার্যকর হলে লন্ডনের সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচিতেও আরও পরিবর্তন আসতে পারে।