ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করলো আয়ারল্যান্ড, স্বাগত জানালো ইরান

117
ইসরায়েলের দখল করা এলাকায় উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে আয়ারল্যান্ড। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনকে কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ায় আয়ারল্যান্ডের প্রশংসা করেছে ইরান।

বুধবার (২৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে ইরানি কর্মকর্তা গারিবাবাদি প্রেস টিভিকে এ তথ্য জানিয়েছে।

তিনি ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এর পরামর্শমূলক মতামতের কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে বলা হয়েছিল ইসরায়েলের এই বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠিত। ওই রায়ে রাষ্ট্রগুলোকে এসব অবৈধ বসতি স্বীকৃতি না দেওয়া এবং এগুলোর সম্প্রসারণে কোনো ধরনের সহায়তা না করার বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়। 

গারিবাবাদি বলেন, তাই বসতি এলাকায় উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচা স্বাভাবিক বাণিজ্য নয়, বরং এটি দখলদারিত্ব বজায় রাখতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অবৈধ পরিস্থিতিকে বৈধতা দেওয়ার শামিল।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমা সরকারগুলো যারা নিজেদের আন্তর্জাতিক আইনের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করে, তাদের এখন শুধু কথা নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে—ইসরায়েলি শাসন, কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়িক লবির চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে।
এ মন্তব্য এমন সময় এসেছে যখন ইউরোপের কয়েকটি দেশ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব আরনল্ডাস অ্যাড্রিয়ানাস জেটেন জানান, নেদারল্যান্ডস অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গোলান হাইটসে বসতি-সংক্রান্ত সব অর্থনৈতিক লেনদেন স্থগিত করবে, যাতে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারিত্বে সহায়তা না হয়।

এদিকে ফিলিস্তিনের “কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন” (সিডব্লিউআরসি)-এর এক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালকে “রক্তপাতের বছর” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা ২৩ হাজার ৮০০টিরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সম্পত্তি। অধিকাংশ হামলাই ইসরায়েলি সেনাদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, প্রায় ৩৫ হাজার গাছ উপড়ে ফেলা বা ধ্বংস করা হয়েছে, শত শত অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।

বসতি সম্প্রসারণ ও জমি দখল ২০২৫ সালে আরও দ্রুততর হয়েছে এবং সামরিক অভিযানগুলোর ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০২৬ সালের শুরুতে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেট পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে “সন্ত্রাসী হামলা” থেকে নামিয়ে “গুরুতর ঘটনা” হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে, ফলে তদন্তের অগ্রাধিকারও কমে যায়।
৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে কমপক্ষে ১,১৫৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত, প্রায় ১১,৭৫০ জন আহত এবং প্রায় ২২,০০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যান জানায়।