পাকিস্তান ছেড়ে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ আমদানির বড় সিদ্ধান্ত আফগানিস্তানের

26

সাইফ হাসান: আফগানিস্তানের ওষুধের বাজার ঢেলে সাজানোর বড় উদ্যোগ নিয়েছে তালেবান সরকার। পাকিস্তান থেকে নিম্নমানের ওষুধ আসা বন্ধ করতে দেশি উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রতিবেশী পাকিস্তানের বদলে এখন বাংলাদেশ ভারত ও ইরান থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ আনার পরিকল্পনা চলছে। বাজারে সাময়িক সংকট ও ওষুধের দাম বাড়লেও পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সরকারের দাবি নকল ও ভেজাল ওষুধ ঠেকাতেই দীর্ঘমেয়াদী এই সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাইয়ুম নাসির জানিয়েছেন যে আমদানিকারকদের বিকল্প এবং বৈধ উৎস খুঁজে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান থেকে প্রায় অর্ধেকের বেশি ওষুধ আসলেও সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে এখন সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবহনের সময় ও খরচ অনেক গুণ বেড়ে গেছে বলে আমদানিকারকরা মনে করছেন।

কাবুলের ফার্মাসিস্ট মুজিবুল্লাহ আফজালি জানিয়েছেন যে বাজারে কিছু ওষুধের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বেশ সমস্যায় পড়েছেন। আগে পাকিস্তান থেকে খুব দ্রুত পণ্য পাওয়া গেলেও এখন ইরান সীমান্ত দিয়ে ওষুধ আনতে খরচ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না করলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান জানিয়েছেন যে পাকিস্তান থেকে আসা অধিকাংশ ওষুধ নকল ও ভেজাল হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, তুরস্ক এবং চীন থেকে ওষুধ আমদানির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তালেবান প্রশাসন। ভারতের সাথে ইতিমধ্যে আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে আফগানিস্তানে স্থানীয়ভাবে ৬০০ ধরণের ওষুধ উৎপাদন করা হচ্ছে যা চাহিদার একটি অংশ পূরণ করছে। মল্লি শিফা ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নাসার আহমদ তারাকি জানিয়েছেন যে তারা প্রতিদিন এক লাখ বোতল সিরাম উৎপাদন করছেন। বিদ্যুৎ ও কাঁচামালের দাম কমলে এই উৎপাদন ক্ষমতা আরও দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

#আফগানিস্তান #ওষুধসংকট #বাংলাদেশ #aknews #onebanglanews