সাইফ হাসান: চট্টগ্রামে খতনা করাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে সাত বছর বয়সী ফুটফুটে শিশু মোহাম্মদ মোস্তফা। গত শনিবার নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির পর অস্ত্রোপচারের সময় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। পরিবারের অভিযোগ চিকিৎসকদের অবহেলা আর অ্যানেসথেসিয়ার ভুলেই তাদের সন্তান মা\রা গেছে। হাসিমুখে অপারেশন থিয়েটারে যাওয়া শিশুটি শেষ পর্যন্ত লা*শ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার দাবি করেছেন স্বজনরা।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামের আবু মুসার বড় ছেলে মোস্তফা। গত শনিবার সকালে তাকে বহদ্দারহাট এলাকার সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে খতনা করানোর জন্য ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হাসিমুখে ছবিও তুলেছিল শিশুটি যা এখন তার পরিবারের কাছে শেষ স্মৃতি হয়ে আছে।
শিশুটির বাবা আবু মুসা জানান বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মোস্তফাকে সার্জারি কক্ষে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ জানায় যে শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হবে। তখন আবু মুসা কোনো প্রশ্ন করার মতো অবস্থায় ছিলেন না এবং দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় মোস্তফার শরীর বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল এবং তার কোনো নড়াচড়া ছিল না।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ১০টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকেরা মোস্তফাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুসনদে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও পরিবারের দাবি অ্যানেসথেসিয়ার অপব্যবহারই এই মৃত্যুর মূল কারণ। মোস্তফার প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি থাকায় তাকে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা।
এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরী এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন ঠিক কী কারণে এমনটা ঘটেছে তা বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়। আদরের সন্তানকে হারিয়ে এখন মোস্তফার বাবা-মায়ের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
#chittagong #medicalnegligence #childdeath #aknews #onebanglanews















