সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডের হাসপাতালগুলোতে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো ফ্লু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে যা স্বাস্থ্যখাতের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর। গত ২৮ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দৈনিক গড়ে ২ হাজার ৬৭৬ জন ফ্লু রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আগের সপ্তাহের তুলনায় এই হার প্রায় ১৩ শতাংশ কমলেও হাড়কাঁপানো শীতের কারণে বাড়তি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তারা কোনোভাবেই আত্মতৃপ্তিতে ভুগছেন না কারণ শীতের তীব্রতা বাড়লে চাপ আরও বাড়তে পারে। এবারের মৌসুমে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ ফ্লু টিকা নেওয়ায় অবস্থার এই ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এনএইচএসের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এর আগের সপ্তাহে দৈনিক ফ্লু রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬১ জন। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে এই সংখ্যা ৩ হাজার ১৪০ জনে পৌঁছেছিল যা এখন নিম্নমুখী। গত বছরের শীতকালে ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪০৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সেই তুলনায় এবার পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে গত সপ্তাহে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ফ্লু রোগীর সংখ্যা সামান্য বেড়ে ১২৮ জনে দাঁড়িয়েছে যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ১১৭ জন।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা বর্তমান শৈত্যপ্রবাহের কারণে ইংল্যান্ডে অ্যাম্বার এবং ইয়েলো সতর্কবার্তা জারি করেছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বাড়তে পারে যা হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করার আশঙ্কা রয়েছে। এনএইচএসের জাতীয় চিকিৎসা পরিচালক অধ্যাপক মেঘনা পণ্ডিত জানান ফ্লু আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও এনএইচএস ১১১ হেল্পলাইনে গত শনিবার গত দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কল এসেছে যা পরিষেবার উচ্চ চাহিদাকেই নির্দেশ করে।
স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন শীতকালীন নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস পরিশ্রমে হাসপাতালের শয্যা খালি থাকার হার গত বছরের তুলনায় ভালো। অ্যাম্বুলেন্স থেকে রোগীদের জরুরি বিভাগে হস্তান্তরের সময়ও আগের চেয়ে কমেছে। তবুও তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এএন্ডই বিভাগে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে যারা টিকার জন্য যোগ্য তাদের দ্রুত ফ্লু টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এনএইচএসের প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে ডায়রিয়া ও বমির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির হার গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। গত সপ্তাহে গড়ে ২৮৪টি শয্যা এই রোগীদের দখলে ছিল যা দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশ কম। এছাড়া অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দেরি হওয়ার হারও এই শীতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। মাত্র ১৮ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে হস্তান্তরের জন্য ৩০ মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে যা আগের সপ্তাহে ছিল ২২ শতাংশ।
#ফ্লু #ইংল্যান্ড #এনএইচএস #স্বাস্থ্যসেবা #aknews #onebanglanews















