সাইফ হাসান: ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করার অভিযোগে ব্রিটেনে বহু মানুষের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রথম দফায় ২৮ জন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। দেশজুড়ে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী একই অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের বিচার ব্যবস্থায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য সরকার প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকেই ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন বিক্ষোভে “আমি গণহত্যা সমর্থন করি না, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি” লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করায় প্রায় ২১০০-র বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, যা একটি নিম্ন-স্তরের সন্ত্রাসবাদের অপরাধ।
বুধবার ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জেলা জজ মাইকেল স্নো-র অধীনে মামলার শুনানি শুরু হয়। আদালতে উপস্থিত ২৮ জন আসামীর বেশিরভাগেরই কোনো আইনজীবী ছিলেন না, এবং অনেকেই এই বিচারকে অন্যায্য বলে অভিযোগ করেন। তাদের মধ্যে বয়স্ক নাগরিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ রয়েছেন।
আদালতে ৮৩ বছর বয়সী রেভারেন্ড সুসান পারফিট বিচারককে বলেন, তিনি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদ করেছিলেন এবং তাই তিনি নির্দোষ। আরেক আসামী, ডেভিড কিলরয় বলেন, “যখন অবিচার আইন হয়ে যায়, তখন প্রতিরোধ কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়।” তারা গণহত্যা ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাকে সন্ত্রাসবাদ মানতে নারাজ।
এই বিপুল সংখ্যক মামলার বিচার নিয়ে আদালত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই একটি আইনি লড়াই চলছে। যদি সেই লড়াইয়ে নিষেধাজ্ঞাটি বাতিল হয়ে যায়, তবে এই সমস্ত মামলাও খারিজ হয়ে যেতে পারে। এই আইনি জটিলতার কারণে চূড়ান্ত বিচার ২০২৬ বা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।















