সাইফ হাসান: ব্রিটেনের সবচেয়ে বিখ্যাত জ্যাজ গায়িকা ডেম ক্লিও লেইন ৯৭ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি তার চার অক্টেভের কণ্ঠস্বর এবং জ্যাজ, পপ, ক্লাসিক্যাল ও মিউজিক্যাল থিয়েটারে অসাধারণ প্রতিভার জন্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত ছিলেন। তার স্বামী জন ড্যাঙ্কওয়ার্থের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা তাকে জ্যাজ জগতের শীর্ষে নিয়ে যায়। তার মৃত্যুতে সঙ্গীত জগৎ শোকাহত।
Starting at the top … Cleo Laine and John Dankworth performing in 1963. Photograph: David Redfern/Redfernsক্লিও লেইন ১৯২৭ সালে লন্ডনের ইউক্সব্রিজে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন জ্যামাইকান এবং মা ইংরেজ কৃষকের মেয়ে। কিশোর বয়সে তিনি বিভিন্ন পেশায় কাজ করেন, যেমন হেয়ারড্রেসার, লাইব্রেরিয়ান এবং পণব্রোকার। কিন্তু সঙ্গীতের প্রতি তার আকর্ষণ তাকে ক্লাবে গান গাওয়ার দিকে নিয়ে যায়। ১৯৫১ সালে তিনি জন ড্যাঙ্কওয়ার্থের ব্যান্ড ‘ড্যাঙ্কওয়ার্থ সেভেন’-এ যোগ দেন এবং তার নাম পরিবর্তন করে ক্লিও লেইন রাখেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ড্যাঙ্কওয়ার্থকে বিয়ে করেন এবং তাদের যৌথ সঙ্গীত যাত্রা শুরু হয়।
ক্লিওর কণ্ঠস্বর ছিল অসাধারণ, যা চার অক্টেভ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি স্ক্যাট গাওয়ার কৌশলে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। তিনি শুধু জ্যাজ নয়, পপ, ক্লাসিক্যাল এবং মিউজিক্যাল থিয়েটারেও সমান পারদর্শী ছিলেন। ১৯৬১ সালে তার গান “ইউ’ল অ্যানসার টু মি” ব্রিটিশ পপ চার্টে পঞ্চম স্থান অধিকার করে। তিনি রে চার্লসের সঙ্গে ‘পোর্গি অ্যান্ড বেস’ এবং ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার সঙ্গে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে পারফর্ম করেন। তিনি একমাত্র গায়িকা যিনি জ্যাজ, পপ এবং ক্লাসিক্যাল বিভাগে গ্র্যামি মনোনয়ন পেয়েছেন।

Joined at the hip … Cleo Laine and John Dankworth at their home in Wavendon in 2009. Photograph: Richard Saker/the Observer
১৯৭০ সালে ক্লিও এবং জন বাকিংহামশায়ারের ওয়াভেনডনে তাদের বাড়ির কাছে ‘দ্য স্টেবলস’ নামে একটি সঙ্গীত ভেন্যু প্রতিষ্ঠা করেন। এই ভেন্যুতে ডেভ ব্রুবেক, অ্যামি ওয়াইনহাউসের মতো শিল্পীরা পারফর্ম করেছেন। ২০১০ সালে জন ড্যাঙ্কওয়ার্থের মৃত্যুর দিনে ক্লিও এই ভেন্যুতে পারফর্ম করেন এবং কনসার্ট শেষে তার স্বামীর মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেছিলেন, “এটা ‘শো মাস্ট গো অন’ নয়, আমি জানতাম জন এটা চাইতেন। আমরা ছিলাম অবিচ্ছেদ্য।”
ক্লিও ১৯৭৯ সালে ওবিই এবং ১৯৯৭ সালে ডেম উপাধি পান। তার সন্তান জ্যাকি এবং অ্যালেক, যারা দুজনই সঙ্গীতশিল্পী, তার মৃত্যুর পর বলেন, “আমরা আমাদের প্রিয় মাকে খুব মিস করব। আমরা শোকের এই সময়ে একান্তে থাকতে চাই।” তার প্রথম সন্তান স্টুয়ার্ট ২০১৯ সালে মারা যান। ক্লিওর সঙ্গীত এবং নাট্যজগতে অবদান চিরস্মরণীয় থাকবে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















