সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গড়ে ৫৩,০০০ পাউন্ড ঋণ নিয়ে স্নাতক হচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এটি ১০% বেশি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। স্টুডেন্ট লোন কোম্পানির তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।
স্টুডেন্ট লোন কোম্পানি (এসএলসি) জানায়, ২০২৪-২৫ সালে ইংল্যান্ডের ছাত্রদের গড় ঋণ ৪৮,২৭০ পাউন্ড থেকে বেড়ে ৫৩,০০০ পাউন্ড হয়েছে। স্কটল্যান্ডে, যেখানে স্থানীয় ছাত্রদের জন্য টিউশন ফি নেই, গড় ঋণ মাত্র ১৭,০০০ পাউন্ড। উত্তর আয়ারল্যান্ডে এটি ২৮,০০০ পাউন্ড এবং ওয়েলসে ৩৯,৪৭০ পাউন্ড। এই পার্থক্য ইংল্যান্ডের উচ্চ টিউশন ফি এবং জীবনযাত্রার খরচের কারণে।
হায়ার এডুকেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, ৬৮% পূর্ণকালীন ছাত্র সপ্তাহে গড়ে ১৩ ঘণ্টা চাকরি করেন। এটি গত দশকের সর্বোচ্চ হার। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ মেটাতে ছাত্ররা বাধ্য হচ্ছেন কাজে যোগ দিতে। এসএলসি জানায়, ঋণ পরিশোধের দায়িত্বে থাকা ৩০ লাখ প্রাক্তন ছাত্রের মধ্যে ৬২% ইউকে ট্যাক্স সিস্টেমে রয়েছেন, এবং ২০২৪-২৫ সালে তারা গড়ে ১,১০০ পাউন্ড পরিশোধ করেছেন।
ইংল্যান্ডের সরকারের মোট ছাত্রঋণ এখন ২৬৬ বিলিয়ন পাউন্ড, যা ১০ বছর আগে ৬৪ বিলিয়ন পাউন্ড ছিল। ২০১২ সালে বার্ষিক টিউশন ফি ৯,০০০ পাউন্ড করা হয়েছিল, এবং আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এটি ৯,৫৩৫ পাউন্ড হবে। তবে এই অতিরিক্ত আয় উচ্চশিক্ষার আর্থিক সংকট সমাধানে যথেষ্ট নয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর এন্ট্রিপ্রিনিউরশিপ ইন এডুকেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, এক-চতুর্থাংশ বিশ্ববিদ্যালয় নেতা বলেছেন তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য “সম্পূর্ণ সংস্কার” প্রয়োজন।
টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সাল থেকে মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইউকে ছাত্রদের টিউশন ফি-এর প্রকৃত মূল্য এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ফি-এর ওপর নির্ভর করছে। ইনস্টিটিউটের পরিচালক আলেকজান্ডার ইওসাড বলেন, “কম র্যাঙ্কিংয়ের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাক্তন পলিটেকনিকগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল এবং আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ওপর বেশি নির্ভরশীল।” তিনি সতর্ক করেন, সরকারের প্রস্তাবিত ভিসা নীতি, যেমন ৬% ফি লেভি ও কঠোর নিয়ম, এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















