আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ারও ঘোষনা দিয়েছেন তিনি। তবে এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে ইউরোপের দেশগুলোর সংগঠন ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করবে না।
ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ৭-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত ইমানুয়েল গিয়াউফ্রেট। বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর।
সাক্ষাৎকারে ইমানুয়েল গিয়াউফ্রেট বলেন, আমাদের দূতাবাস তেল আবিবেই থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করবে না।
ইমানুয়েল গিয়াউফ্রেট বলেন, এ ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব রয়েছে। জেরুজালেমের বিষয়ে অবশ্যই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে আলোচনা হতে হবে। এই আলোচনার আগেই এ ব্যাপারে নতুন অবস্থান নেওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য ভালো কিছু নয়।
তিনি বলেন, সব ধর্মের জন্যই জেরুজালেম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। আমাদের পরস্পরের সংবেদনশীলতা অনুধাবনের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানেরও পুনরাবৃত্তি করেন ইমানুয়েল গিয়াউফ্রেট। তিনি বলেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থাই এই সংকটের একমাত্র সমাধান। এর প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, ইসরায়েলের অধিকাংশ মানুষের এই সমাধানের ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।
ইমানুয়েল গিয়াউফ্রেট বলেন, জেরুজালেম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আমেরিকা যদি শান্তির জন্য একটি ভালো প্রস্তাব দেয় আমরা তাতে সমর্থন দেবো। আমাদের নেতা হওয়ার প্রয়োজন বা আকাঙ্ক্ষা নেই।
তিনি বলেন, জেরুজালেম ইস্যুতে যে কোনও একতরফা পদক্ষেপ নেতিবাচক ফল বয়ে নিয়ে আসবে।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করতে ১৯৯৫ সালে একটি আইন প্রণয়ন করে মার্কিন কংগ্রেস। তখন থেকে এ পর্যন্ত কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেননি। ওই আইনের বিধান অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের সামগ্রিক ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের। চাইলে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য দিক বিবেচনায় প্রতি ছয় মাস পর পর বিষয়টি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। সেই ১৯৯৫ সাল থেকে প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ আইনি সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। ফলে তেল আবিবেই থেকে গেছে মার্কিন দূতাবাস।
সূত্র: ইন্টারনেট















