পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যু! তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

30

সাইফ হাসান: কৃষ্ণাঙ্গ ছাত্র গডরিক ওসেইয়ের মৃত্যুতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তদন্তে বলা হয়েছে, তাকে কলার ধরে বাথরুমের মেঝেতে টেনে নেওয়া এবং হাতকড়া পরানো তার চিকিৎসা সংকটকে আরও খারাপ করেছে। ২০২২ সালের ৩ জুলাই কর্নওয়ালের ট্রুরোতে মাদক ও মদ্যপানের পর তীব্র আচরণগত ব্যাধি (এবিডি) নিয়ে ওসেই পুলিশের কাছে সাহায্য চান, কিন্তু মারা যান। পরিবার ও দাতব্য সংস্থা দাবি করছে, জাতিগত কারণে তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে।

৩৫ বছর বয়সী গডরিক ওসেই কেয়ার হোমে ঢুকে বাথরুমে আটকা পড়েন। পুলিশ এসে তাকে কলার ধরে টেনে বের করে এবং হাতকড়া পরায়। তদন্তে বলা হয়েছে, হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা, এবিডি, মাদক-মদ্যপান এবং মানসিক সমস্যা (পিটিএসডি) তার মৃত্যুর কারণ। পুলিশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া এই অবস্থা আরও খারাপ করে। অফিসার পিটার বক্সাল বলেন, তিনি ওসেইয়ের এবিডি চিনতে পারেননি, যদিও তিনি এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত ছিলেন। তিনি ওসেইয়ের প্রতি অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

পরিবারের আইনজীবী উনা মরিস দাবি করেন, ওসেইয়ের জাতি দেখে বক্সালের আচরণ বদলে যায়। তিনি ওসেইকে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং অশ্লীল মন্তব্যকে “অমানবিক” বলেন। তবে বক্সাল জাতিগত প্রভাব অস্বীকার করেন। দাতব্য সংস্থা ইনকোয়েস্ট জানায়, কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিরা পুলিশের বলপ্রয়োগের পর সাদা ব্যক্তিদের তুলনায় সাত গুণ বেশি মারা যান। জোডি অ্যান্ডারসন বলেন, “পুলিশের প্রতিক্রিয়া ছিল নৃশংস। এটি পুলিশে প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদের সংস্কৃতি তুলে ধরে।”

এই ঘটনা ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের জন্য সংবেদনশীল, কারণ ২০১২ সালে মানসিক সংকটে থাকা থমাস অর্চার্ডের মৃত্যুতে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ওসেইয়ের পরিবার তাকে একজন প্রিয় পিতা ও ভাই হিসেবে বর্ণনা করে, যিনি বাবার মৃত্যুর পর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian