সাইফ হাসান:ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আত্মহত্যায় সহায়তা আইন চালু হলে এক দশক পর প্রতিদিন ১২ জন পর্যন্ত মানুষ এই সেবার মাধ্যমে জীবন শেষ করতে পারে—সরকারি এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে প্রকাশিত একটি প্রভাব বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আইনি সহায়তায় আত্মহত্যার প্রথম বছরে এই সেবার ব্যবহারকারীর সংখ্যা হতে পারে ১৬৪ থেকে ৭৮৭ জন। আর ১০ম বছরে এই সংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১,০৪২ থেকে ৪,৫৫৯ জে। অনুমান করা হচ্ছে, ১০ম বছরে গড়ে ২,১৮৩ জন এই পথে মৃত্যুবরণ করতে পারে।
লেবার পার্টির এমপি কিম লিডবিটার উক্ত বিলটি পার্লামেন্টে পেশ করেছেন। ১৬ মে তারিখে বিলটির ওপর পুনরায় ভোট হবে। এই আইনের প্রথম ধাপ গত নভেম্বরেই পার্লামেন্টে পাস হয়। সরকার এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে আছে।
“মানুষের মরার অধিকার থাকা উচিত—বিশেষ করে যাদের অসুস্থতা আর সহ্য করার মতো না,” বলেছেন এমপি কিম লিডবিটার এক সাংবাদিককে। তিনি বলেন, “আমি চাই এই বিষয়ে মানুষদের একটা সম্মানজনক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকুক।”
এই আইনের আওতায় প্রতিটি মৃত্ুর আগে একটি প্যানেল গঠন করতে হবে, যারা প্রক্রিয়াটি অনুমোদন দেবে। এই প্যানেল পরিচালনার খরচ প্রতিদিন গড়ে ২,০০০ পাউন্ড। ১০ বছরে এটি দাঁড়াবে ৯ লাখ থেকে ৩.৬ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত। পুরো ব্যবস্থাটি চালাতে প্রতি বছর ব্যয় হতে পারে ১০.৯ মিলিয়ন থেকে ১৩.৬ মিলিয়ন পাউন্ড।
তবে NHS বা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার জন্য এই আইনের ফলে আর্থিক সাশ্রয়ও হতে পারে। প্রভাব বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রথম বছরেই ৯.১৯ লাখ থেকে ১.০৩ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় হতে পারে। আর ১০ম বছরে এটি দাঁড়াতে পারে ৫.৮ মিলিয়ন থেকে ৫৯.৬ মিলিয়ন পাউন্ডठর্যন্ত।
এই আইনকে ঘিরে সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ এটিকে মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যু বলছেন, কেউ আবার বলছেন এটি একটি বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে সংসদে বিলটির ভবিষ্যৎ এখন ১৬ মে’র ভোটের ওপর নির্ভর করছে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















