পার্টনারকে হত্যা করে গার্ডেনে পুঁতে রাখেন স্কুল শিক্ষিকা

224

ওয়ানবাংলানিউজ: নর্থহ্যাম্পটনের প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা ফিয়োনা বীল তাঁর পার্টনার নিকোলাস বিলিংহামকে হত্যা করে বাড়ির বাগানে পুঁতে রেখেছিলেন। দুজন যে বাড়িতে বসবাস করতেন, ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে, সেই বাড়িতেই নিকোলাস বিলিংহামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন ফিয়োনা বীল। এর আগে ফিয়োনা বীল, নিকোলাস বিলিংহামকে আকস্মিকভাবে হত্যার কথা শিকার করলেও পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার কথা অস্বীকার করে আসছিলেন। কিন্তু শুক্রবার ওল্ড বেইলি আদালতে তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেন। চার মাস যাবত নিকোলাস বিলিংহামকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই আচমকা ফিয়োনা বীলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিস। বাড়ির গার্ডেন থেকে ৪২ বছর বয়স্ক নিকোলাস বিলিংহামের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দু’জনের সম্পর্কে মাঝে মধ্যে ছেদ পড়লেও ফিয়োনা বিলের দীর্ঘ দিনের পার্টনার ছিলেন নিকোলাস বিলিংহাম। তাঁকে হত্যার অভিযোগে ফিয়োনা বিলের বিচার শুরু হয় ক্রাউন কোর্টে। গত বছর শুরু হওয়া এই বিচারের শুনানিতে ফিয়োনা বিল নিকোলাস বিলিংহামের ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করার কথা স্বীকার করেন। এসময় বেডরুমে নিকোলাস বিলিংহামের চোখ বাধা ছিল। সেসময় করোনা মহামারি চলছিল। ফিয়োনা বীল নর্থহ্যাম্পটনের ইস্টফিল্ড একাডেমী স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করতেন। নিকোলাস বিলিংহামকে হত্যা করে তিনি স্কুলে ফোন করে জানান, তিনি কোভিডে আক্রান্ত; স্কুলে আসতে পারবেন না।

১০ দিনের আইসোলেশনে থাকার সময়ে নিকোলাস বিলিংহামের মৃতদেহ কালো প্লাস্টিকে ভর্তি করেন, হত্যারকাণ্ডের স্থান পরিষ্কার করেন; উপরের তলা থেকে মৃতদেহ টেনে নামিয়ে গার্ডেনে পুঁতে রাখেন। স্থানীয় একটি বিএন্ডকিউ স্টোরের সিসিটিভিতে রেকর্ড হয়, ফিয়োনা বীল বেশ কিছু কম্পোস্ত কিনছেন, যাতে এসব দিয়ে মৃতদেহ ভালোভাবে ঢেকে রাখা যায়।

নিকোলাস বিলিংহামকে হত্যার পর তাঁর মোবাইল ফোন থেকে অনেককে টেক্সট ম্যাসেজ পাঠিয়ে ফিয়োনা বীল বোঝানোর চেষ্টা করেন নিকোলাস বিলিংহাম জীবিত আছেন। এমনকি নিকোলাস বিলিংহামের মাকেও ছেলে সেজে টেক্সট পাঠান ফিয়োনা। নভেম্বরে হত্যার ঘটনা ঘটে যাওয়ার ডিসেম্বরে নিকোলাস বিলিংহামের মা ভোন ভ্যালেন্টাইন ছেলেকে দেখতে ক্রিসমাস উপহার নিয়ে যান ফিয়োনা বীলের ঘরে। এসময় তাঁকে ডেকে নিয়ে ঘরে বসিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তাও বলেন ফিয়োনা। ক্রিসমাস ড্রিঙ্ক পান করতে করতে নিকোলাস বিলিংহামের মা ক্ষণিকের জন্যও বুঝতে পারেননি কয়েক ফুট দূরেই তাঁর ছেলের মৃতদেহ লুকিয়ে রেখেছেন ফিয়োনা বীল।

নিকোলাস বিলিংহামকে হত্যা এবং শিক্ষকতার চাকুরী শুরু করার কয়েক মাস পর অন্য একটি কারণে ফিয়োনা বীলের ঘরে পুলিস যায়। এসময় আতংকিত হয়ে ফিয়োনা বীল পালিয়ে লেইক ডিসট্রিক্টে একটি লজ ভাড়া করে সেখানে চলে যান। সেখানে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন কিন্তু তদন্তকারী পুলিস কর্মকর্তারা তাঁকে সেই ঘরের গোসলখানা থেকে সচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। লেইক ডিসট্রিক্টের ঘর থেকে পুলিস একটি নোটবুক উদ্ধার করে। সেখানে লেখা ছিল ১৭ বছরের প্রতারণা, নিপীড়ন আর নিয়ন্ত্রনের গল্প। ফিয়োনা বীল সেখানে লিখেন, নিকোলাস বিলিংহাম তাঁর নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে তাঁকে উত্তেজিত করতো।

আগামী মাসে ওল্ড বেইলি আদালত ফিয়োনা বীলের শাস্তি ঘোষণা করবেন।