নেপালে ৩০ বছরে বিমান বিধ্বস্তের যত ঘটনা

79

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিমালয়ের দেশ নেপালে দুর্ঘটনা যেন পিছু ছাড়ছে না। ৩০ বছরের ইতিহাসে ২৭টি দুর্ঘটনার নজির আছে স্বর্গীয় এই দেশটিতে। নতুন বছর শুরু হতে না হতেই ফের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হলো নেপালকে। রোববার ইয়েতি এয়ারলাইন্সের এআরটি ৭২ বিমানটি কাঠমন্ডু ছেড়ে যাওয়ার ২০ মিনিটের মাথায় দুই বিমানবালা, দুই পাইলট ও চার ক্রুসহ ৭২ জন আরোহী নিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে। দেশটির বিমান দুর্ঘটনার দীর্ঘ ইতিহাসের জন্য দায়ী করা হয়ে থাকে এবড়ো-খেবড়ো পাহাড়ি অঞ্চল, বিমানে বিনিয়োগের অভাব, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ আর বৈরী আবহাওয়াকে।

২৯ মে, ২০২২ : গত বছর ২৯ মে মাসে ‘তারা এয়ারফ্লাইট-১৯৭’ ২২ জন আরোহী নিয়ে পোখরা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। ভারতের থানে অঞ্চলের চার যাত্রীও ছিলেন বিমানে। দুর্ঘটনা ঘটলে সব যাত্রীই নিহত হন। বিধ্বস্ত হওয়ার তিন দিন পর বিমানে থাকা মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই দুর্ঘটনার জন্য খারাপ আবহাওয়াকে দায়ি করা হয়েছিল।

ADVERTISEMENT

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ : ২৭ ফেব্রুয়ারি আবহাওয়া ছিল মেঘলা। এয়ার ডায়নেস্টি হেলিকপ্টারটি নেপালের ‘পাথিভারা দেবি ট্যাম্পল’ থেকে ৬ যাত্রী নিয়ে চুহানডান্ডার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কাঠমান্ডুতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় সেটি একটি পাহাড়ে বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় পাইলটসহ হেলিকপ্টারে থাকা সাত যাত্রী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন নেপালের পর্যটনমন্ত্রী রবীন্দ্র অধিকারীও। তবে তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে অপারেটিং পদ্ধতি লঙ্ঘন হওয়াকে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়, জ্বালানি ট্যাঙ্কের অবস্থানের কারণে ওজনের ভারসাম্যহীনতা হয়েছে এবং যাত্রীদের বসার ভুল ব্যবস্থাও করা হয়েছিল।

১২ মার্চ, ২০১৮ : ২০১৮ সালের ১২ মার্চ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্ঘটনা কোটি কোটি বাঙালি ও নেপালিদের মনে দাগ কেটেছিল। বিমানে থাকা ৬৭ জন যাত্রী এবং চারজন কেবিন ক্রুর মধ্যে ৪৯ জনই নিহত হন। ঢাকা থেকে ফিরে আসা ফ্লাইটটি অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে সরে যাওয়ায় তাতে আগুন ধরে যায়। বিমানবন্দরের কাছেই একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয় এবং বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তে এই দুর্ঘটনার জন্য পাইলটের বিভ্রান্তিকে দায়ি করা হয়েছিল।

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ : নেপালের কালিকোট জেলায় ১১ জনের একটি বিমান ‘এয়ার কাস্টমন্ডপ পিএসি ৭৫০ এক্সএল’ ২৬ ফেব্রুয়ারি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় দুজন কেবিন ক্রু নিহত হন। এছাড়া নয় যাত্রীর সবাই গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

১২ মে, ২০১৫ : সে বছর নেপালের চারিকোট অঞ্চলে ইউএস মেরিন কর্পস স্কোয়াড্রন ‘ইউএইচ-১ওয়ই ভেনম’ বিধ্বস্ত হয়। বোর্ডে থাকা ছয় মার্কিন মেরিন সদস্য এবং দুই নেপালি সৈন্যসহ আটজনই নিহত হয়েছিলেন। পরপর দুটি ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের একটি মিশনে থাকার সময় এয়ারক্রাফটটি নিখোঁজ হয়।

১৪ মে, ২০১২ : ২০১২ সালের মে মাসে ‘অগ্নি এয়ার ডর্নিয়ার-২২৮’ বিমানটি পাহাড়ের চূড়ায় বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা ২১ জনের মধ্যে ১৫ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ছিলেন ১৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী। বিমানটি পোখরা বিমানবন্দর থেকে জোমসম বিমানবন্দরে যাচ্ছিল।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১১ : বুদ্ধ এয়ারফ্লাইট ১০৩ মাউন্ট এভারেস্টের কাছে দর্শনীয় স্থান ভ্রমণে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার সময় পাহাড়ের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এসময় ১০ জন ভারতীয়সহ বিমানে থাকা ১৯ জনের সবাই মারা যান। দুর্ঘটনার সময় কাঠমান্ডু বিমানবন্দর এবং এর আশপাশের এলাকা তীব্র মেঘাচ্ছন্ন ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়াকে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ি করা হয়।

২৩ সেপ্টেম্বর ও ২১ জুন, ২০০৬ : শ্রি এয়ার হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। পূর্ব নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টারে থাকা কেবিন ক্রু-সহ ২৪ জন যাত্রীই নিহত হন। একই বছর ২১ জুন ক্রু সদস্যসহ ছয়জন যাত্রী নিয়ে একটি ইয়েতি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল।

১২ নভেম্বর, ২০০১ : পশ্চিম নেপালে একটি ফ্লাইটে একটি চার্টার্ড হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। এ দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের মধ্যে নেপালের রাজকুমারী প্রেক্ষ্যা শাহও ছিলেন।

২৭ জুলাই, ২০০০ : রয়্যাল নেপাল এয়ারলাইন্সের পরিচালিত একটি ‘টুইন অটার’ ধংগাধি বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ২২ জন যাত্রী এবং তিনজন ক্রু মারা যান।

৩১ জুলাই, ১৯৯৩ : এভারেস্ট এয়ার পরিচালিত একটি ডর্নিয়ার বিমান চুলে ঘোপতে পাহাড়ের কাছে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় তিনজন কেবিন ক্রু-সহ ১৬ জন যাত্রী নিহত হন।

২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯২ : পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স পরিচালিত ‘এয়ারবাস এ-৩০০ বি৪-২০৩’ বিমানটি কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়।