আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মাত্র ৪৫ দিন প্রধানমন্ত্রী থাকার পর পদত্যাগ করেছেন লিজ ট্রাস। তার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার ট্রাস জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচনের কাজ শেষ হবে। আগামী ২৮ অক্টোবর নতুন নেতার নাম ঘোষণা করা হবে। ততদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। এখন প্রশ্ন হলো, লিজ ট্রাসের পর কে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।
যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ও শাসক দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা হবার দৌড়ে যোগ দিতে প্রয়োজনীয় একশ এমপির সমর্থন পাওয়ার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেছেন ঋষি সুনাক। দেশটির সাবেক এই অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ৯৩ জন এমপির সমর্থন পেয়েছেন। যদিও তার প্রচার দলের একটি সূত্র দাবি করছে, এই সংখ্যা ইতোমধ্যেই একশ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন এবং লিজ ট্রাসের উত্তরসূরি হবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে তিনিও প্রস্তুত হচ্ছেন।
তবে ঋষি সুনাক বা বরিস জনসন-কেউই আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেননি। অবশ্য সেজন্য তাদের প্রতি সমর্থন ঘোষণাও থেমে নেই।
একদিকে সুনাক দলের বেশ কিছু সিনিয়র নেতার সমর্থন পেয়েছেন। ঋনি সুনাকের প্রচার দলের সূত্র জানিয়েছে ব্যালট পেপারে নিজের নাম ওঠাতে প্রয়োজনীয় একশ এমপির সমর্থন ইতোমধ্যেই তারা যোগাড় করতে সমর্থ হয়েছেন। এর মধ্যে আছে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভেদ, নিরাপত্তা মন্ত্রী টম টুগেনডাট ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক।
অন্যদিকে জনসনের সমর্থকরা বলছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথেষ্ট সমর্থন আছে। বাণিজ্য মন্ত্রী স্যার জেমস ডুডরিজ বরিস জনসনকে সমর্থন দিওেয়ছেন। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মন্ত্রী কেমি ব্যাডনচ ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েল্লা ব্রেভারম্যান বলেছেন দলকে একতাবদ্ধ করতে জনসনকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে ডেইলি টেলিগ্রাফ জানিয়েছে।
এদিকে হাউস অফ কমন্সে রক্ষণশীলদের নেতা পেনি মরডান্টও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আছেন। তবে তিনি এ পর্যন্ত একুশ জনের সমর্থন জোগাড় করতে পেরেছেন।
এরআগে বরিস জনসনের পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মরডান্টও লড়েছিলেন। তিনি তৃতীয় স্থানে ছিলেন। তবে শেষ রাউন্ডে যেতে পারেননি। সুনাকের মতো তিনিও দলের মধ্যপন্থি নেতা বলে পরিচিত। এমনকি দলের মধ্যে এই আলোচনাও হয়েছে, ঋষি ও পেনি হাত মেলালে সেটা ড্রিম টিম হবে। তবে একজন প্রধানমন্ত্রী হলে, অন্যজন অর্থমন্ত্রী হবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরের মধ্যেই একশ এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে প্রত্যেককে যারা প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে অংশ নিতে চান। তিন জন হয়ে গেলে ওইদিনই ভোট দিয়ে একজনকে বাদ দেবেন দলীয় এমপিরা। শুক্রবারের মধ্যে নতুন নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হবে কনজারভেটিভ পার্টিকে।
সূত্র: বিবিসি















