নিউজ ডেস্ক: ক্রাইমিয়া সেতুতে হামলা প্রমাণ করে যে রাশিয়া ইউক্রেনের কোথাও নিরাপদ নয়। তাই ভবিষ্যতে যাতে ইউক্রেন এ ধরণের হামলা চালানোর সাহস না করে, সে জন্য ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে রীতিমত মিসাইল বৃষ্টি চালিয়েছে রাশিয়া। ব্যাপক নিরাপত্তা এবং হুঁশিয়ারি বার্তার পরেও ‘রাশিয়ার গর্ব’ হিসেবে খ্যত ১৯ কিলোমিটারের এই সেতুতে হামলা চালানো সম্ভব হয়। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিশ্চিত করেছেন, এ হামলার পেছনে রয়েছে ইউক্রেন। ওই হামলায় সেতুর একাংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও, অন্য অংশ দিয়ে যান চলাচল অব্যাহত আছে।
এই সেতুটি শুধু ক্রাইমিয়ার জন্যই নয়, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে যুদ্ধরত রুশ বাহিনীর সদস্যদের রসদ সরবরাহের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আক্রমণের পর এই সেতু ইউক্রেনের প্রধান টার্গেট হয়ে ওঠে। তবে সরাসরি আঘাত হেনে এই সেতু ধ্বংস করা ইউক্রেনের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী কখনও ওই সেতু পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতো না। সেখানে মোতায়েন আছে রাশিয়ার এস-৩০০ ও এস-৪০০।
আবার ইউক্রেনের টিবি২ ড্রোন দিয়েও এই অপারেশন সফল করা সম্ভব নয়। কারণ, এই ড্রোনগুলো দিয়ে সাধারণত গাড়ি হামলা চালানো হয়।
৩.৬ বিলিয়ন ডলারের সেতু ধ্বংস করা অন্য বিষয়। রাশিয়াও এ ধরণের আকাশ পথে হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল। সেটা ঠেকাতে যে কোনো ধরণের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন তা নেয়া হয়েছে। এতসব নিরাপত্তা ব্যুহ অতিক্রম করে হামলা চালানো ইউক্রেনের পক্ষে ছিল একরকম অসম্ভবই।
তারপরেও গত শনিবার বিশাল এক বিস্ফোরণে ক্রাইমিয়া সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ে। এছাড়া রেল লাইনেরও বেশ ভাল ক্ষতি হয়। রাশিয়া যদিও দ্রুতই সেতু মেরামত শুরু করে কিন্তু এই হামলা এরইমধ্যে দেশটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ইউক্রেনের দক্ষিণাংশে মোতায়েন থাকা রুশ সেনাদের রসদ সরবরাহে ব্যাপকভাবে ক্রাইমিয়া সেতু ব্যবহার করা হয়। এই সেতু দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তা রুশ সেনাদের ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি করবে।
তবে ইউক্রেনের আসল অর্জন হলো, এ হামলার মধ্য দিয়ে প্রোপ্যাগান্ডা যুদ্ধে দেশটি অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ইউক্রেনীয়রা অনেক আশাবাঞ্চক হয়ে উঠেছে এ হামলার পর। অপরদিকে রুশদের মনোবলে আঘাত হেনেছে এ ঘটনা। ভ্লাদিমির পুতিনের জন্যেও এই হামলা মেনে নেয়া সম্ভব ছিল না। ২০১৮ সালে তিনি নিজে এসে এই সেতুর উদ্বোধন করেছিলেন। ট্রাক চালিয়ে তিনি সেতুতে প্রবেশ করেছিলেন। তাই সেতুতে আঘাত হানার একদিনের মাথায়ই ইউক্রেনকে শিক্ষা দিতে পিছপা হননি পুতিন। বৃষ্টির মতো মিসাইল ছুড়েছেন কিয়েভ, লাভিভ ও খারকিভে। এতদিন ক্যামেরার সামনে যে আত্মবিশ্বাসী জেলেনস্কিকে দেখা যেতো, সেই চেহারা তিনি বদলে দিয়েছেন।
তবে শুধু ইউক্রেনকে শাস্তি দিয়েই থামেনি রাশিয়া, ক্রাইমিয়া সেতুতে যেনো আবারও হামলা না হয় সে জন্যও নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এফএসবি’র উপর। এছাড়া রাশিয়ার অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ক্রাইমিয়া সেতু দিয়ে পাড় হওয়া ট্রাক চালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে তিনি এই রুটে চলাচল করতেন কিনা তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।















