দেশ এখন দেউলিয়া ঘোষণার অপেক্ষায়: রিজভী

127

ঢাকা সংবাদদাতা: বিএনপি সিনিয়র যুগ্নমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশ এখন দেউলিয়া ঘোষণার অপেক্ষায়। তিনি বলেন, দেশ এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। প্রতিদিন চারদিকে অশনি সংকেত আর ঘনঘোর অন্ধকার নেমে আসছে। সর্বত্রই অস্বস্তি-অস্থিরতা। ক্ষমতাসীনদের বিশৃঙ্খলা ও অপকীর্তির শেষ নেই।

নিশিরাতের অবৈধ সরকার পরিকল্পিতভাবে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা লুটপাট করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো খালি হয়ে গেছে। রিজার্ভ তলানীতে ঠেকেছে। গত ১৩ বছরে বেপরোয়া দুর্নীতিযজ্ঞের কারণে দেশ এখন দেউলিয়া ঘোষণার অপেক্ষায়।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, কিছুদিন আগেও আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা দেশকে সিঙ্গাপুর-অস্ট্রেলিয়া-কানাডার সাথে তুলনা করে গলাবাজি করতো। দেশকে ঋণের ফাঁদে ডুবিয়ে এখন তারা ফুটো বেলুনের মতো চুপসে গেছে। ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল অঙ্কের ঋণ বাংলাদেশ পরিশোধ করার সামর্থ হারিয়েছে।

জ্বালানী, বিদ্যুৎ সঙ্কট, ডলারের বিপরীতে গত তিন মাস যাবত টাকার মানের ক্রমাগত পতন এবং রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি-দেশের অর্থনৈতিক গতিপথ নিয়ে জনগণকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। মুদ্রামান হারাবার সাথে সাথে ডলার দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে দেশি মার্কেটে। এই লুটেরা সরকার দুর্নীতি রোধ করতে অতোটা আগ্রহী নয়, যতোটা না আগ্রহী বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও তহবিল হতে ঋণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন স্থানে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে নিজের সন্তান বিক্রি করে দিচ্ছে মানুষ। খাগড়াছড়ির পারুল চাকমা তার একমাত্র সন্তানকে মাত্র ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করতে বাজারে তুলেছে। পৃথিবীতে মনে হয় এর চেয়ে সস্তা আর কিছুই হতে পারে না। এতো সস্তা মানুষের জীবন তাও বিক্রি করতে পারছে না। ইতিহাসের অমানবিক দাসপ্রথা বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী।

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট এমন ঘনীভুত হয়েছে যে, নিরুপায় হয়ে ছিনতাই করতে নেমে পড়েছে কেউ কেউ। ডিমের ট্রাকও ছিনতাই হচ্ছে। ভর্তা আর কাঁচা মরিচ দিয়ে ভাত খাওয়ার সামর্থ হারাচ্ছে মানুষ। বেঁচে থাকার জন্য মানুষ খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। সব খরচ কমিয়ে দিয়েছে। পুঁজি ভেঙে ও ঋণ করে সংসার চালাচ্ছে। নিদারুণ কষ্টে মানুষ জীবনযাপন করছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, কৃচ্ছতা সাধনের কথা বললেও প্রধানমন্ত্রী তার পিতা-মাতার জন্ম-মৃত্যু দিবস পালন উপলক্ষে বর্নাঢ্য জাঁকজমকের সীমারেখা থাকে না। ইতিপুর্বে শত শত কোটি টাকা খরচ করে উৎসব হয়েছে তার পিতার জন্ম শতবার্ষিকীতে। ১৫ আগস্ট তার পিতার শোক পালনের চেয়ে ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে থাকেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের চাঁদা দাবির হুমকিতে। নোয়াখালীর এক এমপি দুই শতাধিক গরু জবাই করে ভোজসভা করার ঘোষণা দিয়েছেন। আর এইসব উপলক্ষে চাঁদাবাজির মহোৎসবের খবর পত্রিকায় সয়লাব। কিন্তু জনগণ দেখছে প্রধানমন্ত্রী আর মন্ত্রী, এমপি ও শাসকদলের জন্য ‘বেহেস্তের নিয়ম’, আর তাদেরকে সবক দেয় তার উল্টোটা। কারণ অবৈধ ক্ষমতার আমলকি তাদের করতলগত।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার রোগমুক্তি ও আশু সুস্থতা কামনা এবং দেশব্যাপী চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত ও যারা আহত হয়েছেন তাদের সুস্থতা কামনায় আগামী ১৬ আগষ্ট দেশব্যাপী জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে দোয়া মাহফিল ঘোষণা দেন রিজভী।