ব্রিটেনে অবৈধদের বৈধতা এবং বাংলাদেশ থেকে রেস্টুরেন্ট কর্মী আনা

1257

ওয়ানবাংলানিউজ ডেস্ক: গত কয়েক সপ্তাহ যাবত খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্প এবং ভারী যানবাহন পরিচালনাকারী শিল্পের নেতারা সরকারের সাথে ভিসার কড়াকড়ি প্রত্যাহারের জন্য লবি করছেন, যাতে বিদেশ থেকে কর্মী আনা যায়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, সাময়িকভাবে কিছুটা কষ্ট হলেও মনে রাখতে হবে দেশবাসী ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত হবে গণঅভিবাসনের পথ উন্মুক্ত না করা।

ব্রেক্সিটের পর মজুরি বৃদ্ধি পেলেও কর্মী সংকটে ভুগছে খাদ্য শিল্প ও ভারী যানবাহন পরিচালনাকারী শিল্প। ভারী যানবাহনের ড্রাইভার এবং পোলট্রি শ্রমিক আনার জন্য ১০ হাজার লোককে সহজ শর্তে ভিসা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সরকারের এই পদক্ষেপকে যথেষ্ট মনে করা হচ্ছে না।

এদিকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের একাধিক সংগঠন এক দশকেরও বেশী সময় ধরে ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর সাথে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ রেস্টুরেন্ট কর্মী আনাতে ভিসার শর্ত শিথিল করার জন্য লবি করে আসছে।

বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনার ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন কম দেখানোর জন্যও সরকারের সাথে লবি করছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কম মজুরি দেখিয়ে কর্মী আনার নীতিতে বরিস জনসনের সরকার সায় দেবে বলে মনে হয় না।

কর্মী সংকটে ভোগা অনেক শিল্পের সাথে এখন নতুনভাবে যোগ হয়েছে শুকরের মাংস উৎপাদনকারি শিল্প। এই শিল্পের কৃষকেরা বলছেন, দক্ষ কসাইয়ের অভাবে মাংস উৎপাদন কমে গেছে পাঁচ ভাগের এক ভাগ। এর ফলে দোকান এবং সুপার মার্কেটে শুকরের মাংসের সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি ফার্মগুলোতে শুকরের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে সেগুলোকে সেখানে রাখার জায়গা পাওয়া যাছে না। বেশী বড় হয়ে যাবার কারণে এগুলোর মাংস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার উপযুক্ত থাকবে না। ফলে এক লাখের বেশী শুকর হত্যা করে ফেলে দিতে হবে।

কারি ইন্ডাস্ট্রির কর্মী সংকট দূর করতে কম মজুরিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনার লবিং এর চেয়ে বরং ব্রিটেনে অবস্থানরত দক্ষ এবং অবৈধ কর্মীদের বৈধতা আদায়ের লবিং সফলতার মুখ দেখতে পারে।