হিযবুত তাহরীর বৃটেন কর্তৃক আয়োজিত, “ইসলামী বিশ্বব্যবস্থার প্রত্যাবর্তন” শীর্ষক আন্তর্জাতিক অনলাইন সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন

964

ওয়ানবাংলানিউজ ডেস্ক: হিযবুত তাহরীর, বৃটেন এর উদ্যােগে শনিবার “ইসলামী বিশ্বব্যবস্থার প্রত্যাবর্তন” (Return of the Islamic World Order) শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন সম্মেলনের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করে। সম্মেলনটিতে উপস্থিত ছিলেন ২০০০ এর অধিক সংখ্যক মানুষ। অনুষ্ঠানটির বিভিন্ন পর্যায়ে বক্তারা দূনিয়াব্যাপী বিবিধ সমস্যা ও এর ইসলামিক সমাধান তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, পুঁজিবাদী ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা এইসব সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে শুধু তাই নয় বরং এইসব সমস্যার গোড়ায় রয়েছে এই পুঁজিবাদী ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা। যা পৃথিবীর প্রতিটি কোনায় মানুষের জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ এবং দিনের পর দিন এই পৃথিবীকে করে তুলছে মানুষের বসবাসের অযোগ্য।

সম্মেলনের শুরুতে ফ্রান্সের ইসলাম বিদ্ধেষী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবমাননার প্রেক্ষিতে মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের নির্বাক ভূমিকা পালনের কঠোর সমালোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধানরা তাদের পদাধিকার বলে এই ঘৃণ্য কাজের উপযুক্ত জবাব দেয়া তো দূরে থাক বরং তাদের কেউ কেউ ফ্রান্সের এই কার্যক্রমের নীরব সমর্থক এবং অন্যরা কিছু অন্তঃসারশূন্য বক্তব্যের মাধ্যমে এটাই প্রমানে ব্যস্ত যে তাদের পশ্চিমের দালাল হওয়া ছাড়া আর কোন যোগ্যতা নেই।

বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমান বিশ্বে ইসলামী জীবনব্যবস্থাকে মিডিয়াতে ক্রমাগত আক্রমণ করা হচ্ছে, পশ্চিমা রাজনীতিবিদরা প্রতিনিয়ত ইসলামী মূল্যবোধকে কটাক্ষ করছে, মুসলিম উম্মাহ গণহত্যার শিকার হচ্ছে এবং আমাদের প্রাণের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে অবমাননা করা হচ্ছে বাক স্বাধীনতার নামে। কিন্তু এত সবকিছুর পরও মুসলিমদেরকে বলা হচ্ছে তারা যেন কোন প্রতিক্রিয়া না দেখায়। সম্মেলনের বক্তারা বলেন, মুসলিমরা এইসব জুলুম কখনো মেনে নিবেনা এবং স্মরণ করিয়ে দেন কিভাবে অতীতে খিলাফত রাষ্ট্র এইধরণের জুলুম ও অবমাননার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল।

সম্মেলনের শেষে সবাই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, পুরো বিশ্ব এই নীতিবিবর্জিত পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অবসান চায় ও একটি অবশ্যম্ভাবী পরিবর্তনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এবং একমাত্র সম্পূর্ণ ইসলামিক জীবনব্যবস্থার বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সম্ভব এই অন্যায় ও অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়া। অপরদিকে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয় যে, আমরা আমাদের শক্তি ও সামর্থ এই ক্ষয়িষ্ণু পুঁজিবাদী ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য ব্যয় করি।

আর নবুঅতের আদলে খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাজ করা হচ্ছে ইসলামের জন্য কাজ করা। আমরা যদি অন্য কোন ব্যাপারে আমাদের সময় ও শক্তি ব্যয় করি তাহলে তা শুধু এই জুলুম ও অত্যাচারকে দীর্ঘায়িত করবে। নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামপুরো মানব জাতির জন্য রহমত স্বরূপ পাঠানো হয়েছিল। তিনি আমাদেরকে একটি সত্য ও ন্যায়পরায়ণ জীবনের পথপ্রদর্শন করে গেছেন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের তত্ত্বাবধান করা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সেই পথনির্দেশনা অমান্য করা ও ইসলামী শরীয়াহর বাস্তবায়নকে অগ্রাহ্য করা একটি মারাত্মক অপরাধ। মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানরা এই কাজকে উপেক্ষা করার অপরাধে অপরাধী এবং তাদেরকে এই বিশ্বাসঘাতকতার জবাবদিহি করতে হবে।

ধর্মনিরপেক্ষ উপনিবেশবাদীরা এই পৃথিবীকে দারিদ্রতা ও মহামারীর অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে। এবং মুসলিমরাই পারে এই জরাজীর্ন পৃথিবীকে আলোকময় সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে ও একটি নতুন যুগের সূচনা করতে। আর এই পথে একমাত্র বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মুসলিম বিশ্বের শাসকরা, যারা পশ্চিমের দেয়া সুযোগ সুবিধা হারানোর ভয়ে ভীত।

সবার মনে রাখা উচিত রবিউল আওয়াল মাসে নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর শুভআগমন ও ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম ঘটনা হিজরত সম্পন্ন হয়েছিল। আর এই ইতিহাস বদলে দেয়া হিজরতের মাধ্যমেই আল্লাহর দ্বীন দুনিয়ার বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।