খেলাধুলা ডেস্ক: ২ ম্যাচ সিরিজে প্রথম টেস্টে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ২২১ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। এতে টাইগারদের লিড দাঁড়িয়েছে ২৬৪। জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ২৬৫ রান।
দ্বিতীয় দিনের ৪৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুতে দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করেন তামিম ও নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা তাইজুল। তবে তাতে বাধ সাধেন সফরকারী দলের অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়ন। তাইজুলকে (৪) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ফিরতে বাধ্য করেন তিনি।
নাইটওয়াচম্যান ফিরে গেলে ক্রিজে আসেন ইমরুল কায়েস। তাকেও বেশিদূর এগোতে দেননি লায়ন। ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ বানিয়ে এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে ফেরান অভিজ্ঞ স্পিনার। এতে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
পরে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে সেই চাপ কাটিয়ে উঠেন তামিম। তারা ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। বেশ ছন্দময় ক্রিকেট খেলতে থাকেন এ জুটি। তাদের ওপর ভরসা রেখে বড় লিডের স্বপ্নও দেখতে শুরু করে টাইগাররা।
তবে সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান প্রতিপক্ষের পেসার প্যাট কামিন্স। তার হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বল না বুঝে ওঠার আগেই তামিমের ব্যাট ছুয়ে চলে যায় ম্যাথু ওয়েডের হাতে। এতে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার লাল সংকেত পান বাঁহাতি ওপেনার। ফেরার আগে ক্যারিয়ারের ২৪তম ফিফটি তুলে নেন ড্যাশিং ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ১৫৫ বলে ৮ চারে ৭৮ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি।
তামিম ফিরে গেলে ক্রিজে আসেন প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৮৪ রান করা সাকিব আল হাসান। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি তিনি। লায়নকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার (৫)। এতে ফের চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে সাব্বির রহমানকে নিয়ে চাপ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন মুশফিক। তারা এগুচ্ছিলেনও বেশ। তবে ক্রিকেটদেবী হঠাৎ বেঁকে বসেন। দুর্ভাগ্যবশত লায়নের রানআউটের শিকার হয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ফেরার আগে ১১৪ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন তিনি।
মিস্টার ডিপেন্ডেবল ফিরে গেলে হঠাৎ পথ হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। দলীয় ১৮৬ রানেই ফিরে যান নাসির হোসেন (০) ও সাব্বির রহমানও (২২)।
বিনা রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশকে শেষদিকে একটু পথ দেখান মেহেদী হাসান মিরাজ। নবম উইকেটে শফিউলের সঙ্গে তিনি যোগ করেন মহামূল্যবান ২৮ রান। দশম উইকেট হিসেবে লায়নের বলে আউট হওয়ার আগে ২৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন মিরাজ।শেষ পর্যন্ত সবক’টি উইকেট হারিয়ে ২২১ রান তুলতে সক্ষম হয় টাইগাররা।
দিনের সেরা বোলার অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়ন। ৮২ রানে তিনি শিকার করেন ৬ উইকেট। ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে অল্প রানে বেঁধে রাখতে সহায়তা করেন অ্যাস্টন অ্যাগার।
এর আগে ১ উইকেটে ৪৫ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করে বাংলাদেশ। এতে ৮৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। এর সুবাদে দ্বিতীয় দিন শেষেও চালকের আসনে থাকে মুশফিক বাহিনী।















