করোনা নিয়েই কাজে ফিরলেন ট্রাম্প

217

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে কাজে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার ওভাল অফিসে বসে তিনি ব্রিফিংও করেছেন। খবর সিএনএনের।

চিকিৎসকরা জানান, ট্রাম্প এখনও করোনা নেগেটিভ হননি। করোনা নিয়েই তিনি হাসপাতাল থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। পর দিন হাসপাতালও ছাড়েন। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে যাওয়ায় ট্রাম্পকে ছাড়পত্র দেয় ওয়াল্টার রেড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল। করোনা না সারলেও তর সইছে না ট্রাম্পের। বাসায় ফিরেই ওভাল অফিসে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এদিন ট্রাম্পকে আগের চেয়ে সুস্থ দেখালেও তার কণ্ঠস্বর কিছুটা কাঁপা কাঁপা ছিল।

ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলে উল্লেখ করেন। করোনা চিকিৎসায় দেয়া ওষুধের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও বলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প জানান, শরীরে করোনার এন্টিবডি তৈরি হওয়ার জন্য তিনি চিকিৎসককে হাই ডোজ দিতে বলেন। ওই ওষুধ তার ভালো কাজ করেছে জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ওষুধটি আক্রান্ত আমেরিকানদের সহজলভ্য করার জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। বিনাখরচে সবাই যেন সেটি পায়, সে জন্য তার সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

‘এটি এক কথায় অবিশ্বাস্য। আমি চাই সবাই এই চিকিৎসাটাই নিক’ -যোগ করেন ট্রাম্প।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ট্রাম্প শরীরে কোনো ধরনের করোনা উপসর্গ নেই বলে শন কোনলে জানিয়েছেন। এমনকি গত চার দিনেরও বেশি সময় ধরে তিনি জ্বরমুক্ত।

এক ভিডিওবার্তায় বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি দারুণ অনুভব করছেন।

এদিকে কাজে ফিরে করোনার জন্য দোষারোপ করে ফের চীনকে আক্রমণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা এর জন্য মূল্য দিচ্ছেন না। এটি আমাদের দোষ নয়; এটি চীনের দোষ। এবং চীনকেই এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে।’

করোনা পজিটিভ হওয়ার পর শুক্রবার তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন। ট্রাম্পের কোনো ধরনের অক্সিজেন সাপোর্টও প্রয়োজন হয়নি বলে জানান কোনলে।

হাসপাতাল থেকে ফিরে মাস্ক খুলে ফেলে সমালোচিত হন ট্রাম্প। এ ছাড়া ‘করোনা সাধারণ ফ্লু ছাড়া কিছু নয়’ বলে মন্তব্য করে ফের বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি।

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের আরও কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন।

এখন পর্যন্ত করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন। দেশটিতে ৭৭ লাখ ৭৬ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ লাখ ১৬ হাজারের বেশি লোক।