বিত্তশালীদের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

1130

ঢাকা সংবাদদাতা: বন্যা দুর্গত মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে সমাজের বিত্তশালীদের তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এই আহ্বান জানান।

‘আমি আশা করি, আমাদের বিত্তশালীরা এই দুর্গত মানুষের সেবায় পাশে দাঁড়াবে’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সিলেটের আতিয়া ভিলায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দিতে এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক অনুদানের চেক গ্রহণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চলমান বন্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফসলের বেশ ক্ষতি হচ্ছে। রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। নদী ভাঙনে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

বন্যায় সর্বস্বান্ত মানুষকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের জমিজমা চলে যাচ্ছে, ঘরবাড়ি চলে যাচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি তৈরি করে দেওয়া.. তাদের আবার পুনর্বাসন করা এবং পানিটা নামার সঙ্গে সঙ্গে তারা যেন চাষবাস করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা- সব ধরনের উদ্যোগ আমরা নিয়েছি, সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’
দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সবসময় তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের দেশে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। দুর্যোগ মোকাবিলা করেই আমাদের বাঁচতে হবে। বন্যা, খরা, জলোচ্ছাস.. এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা, জানমালের ক্ষতিটা যাতে কম হয়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সিলেটের আতিয়া ভবনে জঙ্গি হামলায় নিহত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী মোসাম্মৎ সুরাইয়া সুলতানা ও মা সাদেয়া করিম, পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের স্ত্রী বেগম ফারভীন আক্তার ও মা বেগম ফিরোজা বেগম, পুলিশ পরিদর্শক চৌধুরী মোহাম্মদ আবু কয়ছরের স্ত্রী ছায়রা ফারহানা চৌধুরী এবং ছাত্রলীগকর্মী ওয়াহিদুলের মা বেগম সুলতানা আক্তার ও জান্নাতুল ফাহিমের বাবা কামাল আহমদ কাবুলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

ওই সময় আতিয়া মহলে নিহতদের স্বজনদের বেদনার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন শেখ হাসিনা। নিহতদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা নাই। যা হারিয়েছে, সেটাও ফিরিয়ে দিতে পারব না। তাদের ছোটছোট বাচ্চা আছে। তারা যেন ভবিষ্যতে মানুষ হতে পারে, পরিবারগুলো যেন চলতে পারে। যতটুকু পারি, সাহায্য করে থাকি, চেষ্টা করি।’

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব সময় চেষ্টা করি, যারা স্বজন হারায়, আপনজন হারায়.. তাদের পাশে দাঁড়াতে। আমি এটুকু বলব যে, আমি আছি, আমি দেখব। কারো কোনো অসুবিধা যেন না হয়, সেটা আমরা চেষ্টা করব।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মা-বাবাসহ পরিবারের ১৮ সদস্যকে হারানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হারানোর বেদনা যে কত কঠিন, কত নির্মম, সেটা আমার থেকে ভালো কেউ বোঝে না।’

বিদ্যুৎ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, শিপার্স কাউন্সিল, ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে আর্থিক অনুদান দিয়েছে। অনুদান দেওয়ায় এসব সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।