করোনা থেকে সুস্থ হয়েও মারা গেলেন ব্যবসায়ী

464

ঢাকা সংবাদদাতা: করোনা থেকে সুস্থ হয়েও মারা গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার তাপস সাহা নামে এক ব্যবসায়ী।

বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় উপজেলার মোগড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। বৃহস্পতিবার সকালে সৎকারের জন্য তার মরদেহ স্থানীয় শ্মশানে নেয়া হয়।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওই ব্যক্তির সৎকার করার জন্য আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যারা সৎকারে অংশ নিবেন তাদের পরবর্তীতে হোম কোয়ারেন্টিতে থাকতেও বলা হয়েছে।

ঢাকায় হৃদরোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে তাপস সাহার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ২৪ মে। ৫ জুন তিনি নতুন করে আখাউড়া হাসপাতালে নমুনা দিলে পরে সেই রিপোর্টে করোনা নেগেটিভ আসে।

তাপস সাহার ছেলে কৌশিক সাহা জানান, বাবা গত ১৭ মে মোগড়া বাজারে ৩৫০ জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত অর্থে ত্রাণ বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণের দুদিন পর হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর শরীরে জ্বর হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করেন।

২৪ মে রিপোর্টে তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। করোনা শনাক্তের পর ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসোলেশনে কয়েক দিন থাকার পর চিকিৎসক ছাড়পত্র দিলে তার বাবাকে ২৮ মে আখাউড়ায় এনে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়।

চিকিৎসকের পরামর্শে হোম আইসোলেশনে থাকায় তারা আখাউড়া হাসপাতাল কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়নি।

গত ৫ জুন শুক্রবার বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অবগত করে নতুন করে করোনার নমুনা দেয়া হয়। পাশাপাশি অন্যদেরও নমুনা দেয়া হয়।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শ্যামল চন্দ্র ভৌমিক জানায়, তাপস সাহার করোনা শনাক্ত হয় ঢাকায়। পরবর্তীতে তিনি আর নমুনা দিতে আসেন। নমুনা নিয়ে ওনাকে হোম আইসোলেশনে থাকতে বলা হয়। গত মঙ্গলবার আসা ফলাফলে তিনিসহ পরিবারের সবার নেগেটিভ আসে।

এই ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা জানান, ওই ব্যক্তির মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৎকার করা হয়। যারা এ সৎকারে অংশ নেবেন, তাদের পরে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতেও বলা হয়েছে।