সববিধিই উপেক্ষিত; আগের মতোই চলছে গাড়ি ও মানুষ

436

ঢাকা সংবাদদাতা: লঞ্চ, রেল চালু এবং সরকারি অফিস খুলে দেয়ায় সোমবার রাজধানীতে মানুষের আরও ভিড় বেড়েছে। আর তাদের পরিবহনে ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, ইজিবাইক চলাচল বেড়েছে। তবে বেশির ভাগ মানুষকে সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

এদিন বাইরে চলাচলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে যেসব নির্দেশনা দিয়েছে সরকার, সেগুলো না মেনেই মানুষের চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। ছোট্ট ইজিবাইকে সাধারণ সময়ে চালকসহ ৯ জন চলাচল করত; গতকালও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। রিকশায় দুই থেকে তিনজন যাত্রী এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশায়ও গাদাগাদি করে চলাচল করতে দেখা গেছে।

রাস্তাঘাট, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, বিভিন্ন দোকানপাটেও কর্মব্যস্ত নগরবাসীকে খুবই কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে দেখা গেছে। এসব স্থানে কেউ কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস পরেছেন। আবার অনেকে এসবের কোনো তোয়াক্কাই করছেন না।

রোববার সকাল থেকে গাবতলী গরুর হাট সংলগ্ন প্রধান সড়কে অপেক্ষা করে বিভিন্ন মাধ্যমে ঢাকায় আসা মানুষকে রিকশা, সিএনজি, অটোরিকশায় চড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল থেকে সদরঘাট হয়ে ঢাকায় আসা ৩ জন শ্রমিক সিএনজিযোগে গাবতলী এসে ইজিবাইকে সাভারের উদ্দেশে রওনা হন।

ওই ইজিবাইকে চালকসহ ছিলেন ৯ জন। চালকের মুখে মাস্ক ছিল না, তবে যাত্রীদের সবার মুখে মাস্ক ছিল। এ বিষয়ে ইজিবাইকের চালক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘অনেকদিন বেকার।

কয়েকদিন হল গাড়ি বের করেছি। ৯ জনের স্থানে ৪-৫ জন নিয়ে চালানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু গাড়ির সংখ্যা কম হওয়ায় যাত্রীরা উঠে পড়ছে। আর গরমের কারণে মাস্ক পরতে পারছি না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য ঝুঁকি রয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনে আল্লাহর ওপর ভরসা করে পথ চলা শুরু করেছি। আল্লাহ বাঁচায়ে রাখলে বাঁচব, নইলে মারা যাব। এখন এর বাইরে অন্য কিছু ভাবতে পারছি না।’

গাদাগাদি করে কেন গাড়িতে উঠল যাত্রীদের কয়েকজনকে এমন প্রশ্ন করলে তারা বিরক্তি প্রকাশ করে মুখ ঘুরিয়ে নেন। সকালে গাবতলী থেকে আমিনবাজার, সাভার, মোহাম্মদপুর-হাজারীবাগ সেকশন ও বাবুবাজারের উদ্দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, টেম্পো, ইজিবাইক চলাচল করতে দেখা গেছে।

অনেকদিন পর হেলপারদের গাবতলী.., গাবতলী…সহ বিভিন্ন স্থানের নামে যাত্রীদের ডাকতে দেখা গেছে। গাবতলী টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকার বাসকাউন্টারগুলো খুলতে দেখা গেছে। এসব কাউন্টারের সামনে বেশকিছু বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।