সিলেটে হোম কোয়ারেন্টিনে ৬৩৪ প্রবাসী

772

সিলেট সংবাদদাতা: করোনা মোকাবিলায় সতর্ক সিলেট। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা সিলেট। এ কারণে প্রবাসীদের দিকে নজর বেশি। ইতিমধ্যে বিদেশ ফেরত প্রায় ৬৩৪ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় আছে ৪২১ জন। কিন্তু অনেক প্রবাসীই হোম কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মানছেন না। করোনার জন্য প্রস্তুত রাখা সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন

হাসপাতালের কোয়ারেন্টিনে আছেন যুক্তরাজ্য ফেরত এক নারী। স্বস্তির খবর হলো- এখনো সিলেটে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

এরপরও সতর্কতামূলকভাবে সিলেটে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠান সংকোচিত করা হয়। চলমান বাণিজ্যমেলা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তামাবিল সহ তিনটি স্থল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিত্য পণ্য ও পাথর, কয়লা আমদানির জন্য সীমান্ত খোলা আছে। মালামাল বহনকারী যানবাহনের চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। সিলেটের লোক সমাগম যাতে কম হয় সে ব্যাপারেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে- প্রবাসীরা এখনো আসছেন সিলেটে। গতকালও বৃটেনের মানচেস্টার ও মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবি থেকে দুটি ফ্লাইট সিলেটে এসেছে।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- গতকাল দুটি ফ্লাইটে যেসব প্রবাসী সিলেটে এসেছেন তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই ঢুকতে দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলা সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল জানিয়েছেন- বিদেশ ফেরত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের খবর নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি। সিলেটের চৌহাট্টাস্থ শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল পুরোটাকে করোনার আইসোলেশন হাসপাতাল হিসেবে ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শনিবার পর্যন্ত এ হাসপাতালের আউটডোর খোলা ছিলো। এরপর আউটডোর বন্ধ করে দিয়ে গোটা হাসপাতালকে আইসোলেশনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন এ হাসপাতালে রয়েছে ১০০ শয্যা।

প্রয়োজনে সেটিকে ১৫০ শয্যা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা জানান- ওসমানী হাসপাতালে আপাতত তারা আইসোলেশন ইউনিট করছেন না। সাধারণ রোগীদের সুবিধার্থে পাশ্ববর্তী শামসুদ্দিন হাসপাতালের পুরোটাই আইসোলেশন ইউনিট করেছেন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় গতকাল বিকেলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- শামসুদ্দিন হাসপাতালে এখন সরকারিভাবে একজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী নারীকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। দুবাই ফেরত ও সৌদি ফেরত আরো দুই প্রবাসীও কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। পরীক্ষার পর তারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হওয়ার কারণে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান তিনি।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দেবপদ রায় জানিয়েছেন- সিলেটে ৪২১ জন, সুনামগঞ্জে ৪০ জন, হবিগঞ্জে ২২ জন ও মৌলভীবাজারে ২১২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নজরদারিও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এদিকে- প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা সিলেট হলেও স্থানীয়ভাবে করোনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। কোয়ারেন্টিনে থাকা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠিয়ে করতে হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে কোনো কিট এখনো পায়নি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ঢাকায় যোগাযোগ করলেও কিট পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- চট্রগ্রাম ও সিলেটে এখনো আসছেন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী। তাদের বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় সিলেট অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু এখনো সিলেটে কিট দেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে গতকাল তারা ঢাকায় কথা বলেছেন। এদিকে- সিলেটে আসা প্রবাসীদের নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না। তারা অনেকেই বাড়িতে না থেকে সাধারন মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন।