আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বর্ণবাদী মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ২০১৮ সালে বোরকা নিয়ে করা ওই মন্তব্যের তাকে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছিলেন সংবাদ উপস্থাপক নিক ফেরারি। তবে শুক্রবার নিকের ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন বরিস জনসন। জানিয়েছেন, ওই মন্তব্যের জন্য তিনি কোনও ক্ষমা চাইবেন না। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
আগামী ১২ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে স্বভাবতই নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। এর মধ্যেই ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির বিরুদ্ধে ইসলামবিদ্বেষের অভিযোগ উঠেছে।
২০১৮ সালে সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফে লেখা বরিস জনসনের একটি কলাম নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘মুসলিম নারীরা বোরকা পরলে তাদের চিঠির বাক্সের মতো দেখায়।’ ওই লেখায় বোরকা পরিহিত মুসলিম নারীদের ব্যাংক ডাকাতদের সঙ্গে তুলনা করেন জনসন। তার ওই লেখা সে সময় যুক্তরাজ্যে মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণ্য অপরাধে উসকানি দিয়েছিল বলে প্রতীয়মান হয়।
শুক্রবার বরিস জনসন বলেন, ‘যখন এই বিষয়টি লিখি, তখনও আমি কারও প্রতি ব্যথা বা আঘাতের কারণ হইনি। আমি সত্যিই এটি নিশ্চিত করতে চাই যে, প্রত্যেকের মূল্যবোধ রয়েছে। তারা এমন কোনও কুসংস্কারের মুখোমুখি হচ্ছে না, আর যাতে তারা কোনও বৈষম্যের শিকার না হয়। আপনাকে কেবল অতীতে ফিরে যেতে হবে এবং প্রসঙ্গটা দেখতে হবে। এই নির্বাচনের প্রাথমিক বিষয়গুলো থেকে বিরত রাখার জন্য এই বিষয়গুলো প্রকাশ করা হয়েছে।’
২০১৮ সালের ওই কলাম প্রকাশের সপ্তাহখানেক পর যুক্তরাজ্যের হেট ক্রাইম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা টেল মামা জানিয়েছিল, দেশটিতে ইসলামবিদ্বেষের ঘটনা ৩৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগে একজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে স্কটিশ কনজারভেটিভ পার্টি। ২৭ নভেম্বর দলটি জানায়, এক অভিযোগের ভিত্তিতে গ্লাসগোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া ফ্লোর স্কারাবেলোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত তদন্ত চলাকালে তার দলীয় সদস্যপদও স্থগিত থাকবে।















