নবজাতককে পাঁচতলা থেকে ফেলে হত্যা, কিশোরী মা গ্রেপ্তার

584

ঢাকা সংবাদদাতা: নিজের সদ্যোজাত সন্তানকে পাঁচতলা থেকে নিচে ফেলে হত্যা করেছে এবার এসএসসি পাস করা এক কিশোরী। শিশুটিকে ফেলে দিতে সহযোগিতা করে কিশোরীর মা ও সৎ বাবা। পল্লবী থানা পুলিশ ওই কিশোরী ও সৎ বাবাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

শনিবার রাজধানী মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শেখ শামীম এই তথ্য জানিয়েছেন।

শেখ শামীম বলেন, কিশোরী তার সৎ বাবার বাসায় থাকে। বাবার আপন চাচাতো ভাই বেলাল হোসেন পলাশ অর্থাৎ সৎ চাচার সঙ্গে কিশোরীর শারীরিক সম্পর্ক ছিল। বেলাল হোসেন কাতারে থাকতেন। দেশে ফিরে পুনরায় শারীরিক সম্পর্কের ফলে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হন। পরে বেলাল হোসেন আবার কাতারে চলে যান। শনিবার দুপুরের দিকে কিশোরী বাথরুমে গেলে সন্তান প্রসব করেন। ওই কিশোরী এবার মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে।

সহকারী কমিশনার আরো বলেন, সন্তান প্রসবের পর কিশোরী এই ঘটনা তার বাবা-মাকে জানায়। পরে কিশোরী তার বাবা-মায়ের সহযোগিতায় বাড়ির পাঁচতলার বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে নিচে ফেলে দেয় নিজের সন্তানকে। ঘটনাটি ঘটে ঠিক দুপুর ১২টার সময়। ঘটনার পর রূপনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১২টা ৫ মিনিটে রাস্তায় পড়ে থাকা বাচ্চাটি উদ্ধার করে। নিচে পড়ার সাথে সাথে শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে শিশুটি মারা যায়।

শেখ শামীম বলেন, উদ্ধার শেষে পুলিশ পুরো বাড়ি তল্লাশি করে। যে ভেন্টিলেটর দিয়ে শিশুটিকে ফেলে দেওয়া হয় সেখানে রক্তের দাগ লেগে থাকতে দেখা গেছে। তখন কিশোরী ও তার বাবাকে আটক করে রূপনগর থানা পুলিশ। কিশোরীর মা অন্তঃসত্ত্বা থাকায় তাঁকে আটক করা হয়নি। এসব ঘটনার সত্যতা কিশোরী নিজেই স্বীকার করেছে।

শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার অপরাধে কিশোরী ও তার বাবাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে খুনের দায়ে ৩০২ ধারা ও দুষ্কর্মের সহায়তায় ১০৯ ধারায় দুটি মামলা করে। কিশোরী ও তার বাবাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোর্টে চালান করে দিয়েছি আমরা।