ঢাকা সংবাদদাতা: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে নির্বাচনী রোডমার্চ শুরু করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
ময়মনসিংহের শেরপুরের উদ্দেশে শনিবার দুপুর ২টায় উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরে আ স ম আবদুর রবের বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।
রোডমার্চের শুরুতে জেএসডি সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন। নির্বাচন বন্ধ করার সুযোগ খুঁজছেন। তিনি নির্বাচন থেকে পালিয়ে যেতে চান।’
তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া তিনি বিদেশে যেতে চাইলেও দেওয়া হবে।
বিরোধী দলকে নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে বলে জানান আ স ম রব।
নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা প্রটোকল নিয়ে চলছে অভিযোগ করে রব বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির জন্য তাদের প্রটোকল দিতে হবে।
সব ধরনের মামলা-হামলা বন্ধ করার আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব বন্ধ না হলে জনগণ রুখে দাঁড়াবে। তখন সবকিছুর দায় প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে।
এ সময় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘যুদ্ধে নেমেছি। ওদের কাছে অস্ত্র আছে, আমাদের নেই। আমাদের আছে ব্যালট। এ লড়াইয়ে আমরাই জিতব।’
৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘরে ঘুমানোর দরকার নেই উল্লেখ করে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মান্না বলেন, মার খেলেও জবাব না দিয়ে সব জবাব ৩০ ডিসেম্বর দিতে হবে। এমন জবাব দেব যে আওয়াজও করতে পারবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এ পর্যন্ত বিএনপির ৮ জন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপকর্মের জবাব দেওয়ার ভয়ে সরকার ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। এবারের নির্বাচন দেশের অস্তিত্বের, দুঃশাসন হটানোর ও খালেদা জিয়ার মুক্তির নির্বাচন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, জেতার কোনো বিকল্প নেই। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাটি কামড়ে পড়ে থাকতে হবে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পাঁচ দিনেই প্রধানমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনের মতো এত সহিংসতা আগে কখনো ঘটেনি। প্রধানমন্ত্রী সব জায়গায় হামলার জন্য লোক লাগিয়ে দিয়েছেন।
রোববারের মধ্যে সেনাবাহিনী নামানোর আহ্বান জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, আগামী ২ জানুয়ারি ন্যায়বিচারের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে।
রোডমার্চে আরও অংশ নেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির সেলিমা রহমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ‘অসুস্থতার কারণে’ এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি।
রোডমার্চে টঙ্গী থেকে শেরপুর পর্যন্ত আটটি আসনের প্রার্থীদের জন্য সাতটি নির্বাচনী সভা করবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। শেরপুর পৌর পার্ক চত্বরে পথসভার মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হবে।
রোডমার্চে যাদের জন্য ভোট চাওয়া হবে তারা হলেন- গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন সরকার, মাওনা চৌরাস্তায় গাজীপুর-৪ আসনের প্রার্থী ইকবাল সিদ্দিকী, ত্রিশালে ময়মনসিংহ-৭ আসনের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান লিটন, ভালুকায় ময়মনসিংহ-১১ আসনের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ শহরে ময়মনসিংহ-৪ আসনের প্রার্থী আবু ওহাব খন্দকার, ফুলপুরে ময়মনসিংহ-২ আসনের প্রার্থী শাহ শহীদ সারোয়ার, নকলায় শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী ফাহিম চৌধুরী এবং শেরপুর সদরে শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা।














