নিয়ম ভেঙেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন: সুলতানা কামাল

646

ঢাকা সংবাদদাতা: মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল থেকে তিন ছাত্রীকে বের করে দেয়ায় স্তম্ভিত হয়েছেন দেশের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল। তিনি বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ম ভেঙেছে। একইসঙ্গে দাবি জানান, মূল ঘটনা পরিষ্কার করে নিয়ম অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, গতকাল রাতের ঘটনা আমাকে স্তম্ভিত করেছে। আমি অবাক যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এরকম একটি আচরণ কীভাবে করতে পারল। এটা ভাবা যায় না।

এদিকে ছাত্রীকে বের করে দেয়ার ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের এমন আচরণে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায়। অনেকে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ম ভেঙে অগ্রহণযোগ্য কাজ করেছে। আমার মনে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে কোথাও লেখা নেই যে, রাত ১২টার সময় কোনো ছাত্রীকে স্থানীয় অভিভাবকের হাতে তুলে দেয়া যায়। এটা অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে হল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, ফোন কেড়ে নেয়ার পাশাপাশি কয়েকজনকে হল থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে। এরপর সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রীর ‘রগ কাটা’ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মধ্যরাতে তিন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেয়া হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, তিন ছাত্রীকে বের করে দেয়া হয়নি। অভিভাবকরা তাদের বুঝানোর জন্য হল থেকে নিয়ে গেছেন। ওই তিন ছাত্রী হলেন- অন্তি (পদার্থ), রিমি (পদার্থ), শারমিন (গণিত)।

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর বলেন, যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে তাদের বিচার হবে। কিন্তু রাতে কেন অভিভাবক ডেকে তাদের হল থেকে বের করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে মধ্যরাতে ছাত্রীদের বের করে দেয়া হয়নি, তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।