এক সময়ের প্রতাপশালী নেতা তিনি। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লোকজন তাকে এক নামে চিনত। বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছোট ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছিলেন সংসদ সদস্য। অথচ সেই তিনিই কিনা অসুস্থতা নিয়ে ধুকরে মরছিলেন। অবশেষে তার দুর্দশা কানে গেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাশে এসে দাঁড়ালেন।
বলা হচ্ছে চট্টগ্রামে সুস্থ রাজনীতির অগ্রদূত মোহাম্মদ ইউসুফের কথা। স্বচ্ছ রাজনীতির জন্য জনপ্রিয় সংগ্রামী কমিউনিস্ট নেতা মোহাম্মদ ইউসুফ ১৯৯১ সালে আট দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে। সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।
ত্যাগী, জনদরদি ও নির্লোভ রাজনীতিক ছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি চিরকুমার। নিজের কোনো সম্পদ ও ভিটেবাড়িও করেননি। কখনো চাচার বাড়ি এবং বর্তমানে তিনি আপন ছোট ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে জীবন যাপন করেন। মোহাম্মদ ইউসুফ প্রায় পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নানা রোগে অসুস্থ ছিলেন। দুই বছর আগে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাঙ্গুনিয়ার বর্তমান সাংসদ ও প্রাক্তন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের উদ্যোগে তাকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে সুস্থ করে তোলা হয়। এরপর ভাইয়ের বাসায় ফিরে আসার পর এক বছরেরও বেশি সময় তিনি সুস্থ ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি আবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার এই অসুস্থতা নিয়ে কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছিল।
ছোট ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রিত মোহাম্মদ ইউসুফের সাম্প্রতিক অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হতে থাকলে বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলের নজর হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কানে পৌঁছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে মোহাম্মদ ইউসুফকে সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন।
রোববার থেকে মোহাম্মদ ইউসুফের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে প্রাক্তন এ সাংসদকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী রাঙ্গুনিয়া থেকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে মোহাম্মদ ইউসুফকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এরপর তাকে মেডিক্যালের আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জালাল উদ্দিন জানান, প্রাক্তন সাংসদ মোহাম্মদ ইউসুফকে আইসিইউতে ভর্তির পর তার উন্নত চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউসুপ স্ট্রোক করেছিলেন। বর্তমানে অচেতন অবস্থায় আছেন। তার সেফটিসেমিয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. অশোক কুমার দত্তের তত্ত্বাবধানে ইউসুফকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রাক্তন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইউসুফের সুচিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। সব ধরনের খরচ সরকার বহন করবে। তার বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুখ আছে। আগে তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করেছিলেন। আমরা বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করছি। হাসপাতালে উনার জন্য কেবিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’















