সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে মানবপাচার ও অভিবাসীদের পাসপোর্ট আটকে অর্থ আদায়ের অপ*রাধে পাঁচ ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। চক্রটি ভিয়েতনামি অভিবাসীদের পাসপোর্ট জিম্মি রেখে প্রায় ১৬ লাখ পাউন্ডেরও বেশি অর্থ পাচার করে। তদন্তকারীরা ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর আগেই এসব নথি হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পান। পরবর্তীতে এই পাসপোর্টগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। সম্প্রতি বিচারক প্রক্রিয়া শেষে চক্রের সদস্যদের প্রায় ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি জানিয়েছে, চক্রটি ভিয়েতনাম থেকে আসা অভিবাসীদের ছোট নৌকা ও লরির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করাত। ফ্রান্সে থাকার সময়ই তাদের পাসপোর্টগুলো কেড়ে নেওয়া হতো, যাতে পরবর্তীতে জোরপূর্বক অর্থ আদায় নিশ্চিত করা যায়। উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে ৭৪০টি লেনদেনের মাধ্যমে তারা প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড ভিয়েতনামে পাচার করেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বার্মিংহাম শহর থেকে কুয়াং ভ্যান নগুয়েন নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করার পর এই চক্রের মূল সন্ধান মেলে। তল্লাশির সময় তার গাড়ির ভেতর থেকে নগদ ১৬ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ এবং একসাথে বাঁধা ২২০টি ভিয়েতনামি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। এর আগে প্যারিসের চার্লস দ্য গল বিমানবন্দরে চকোলেট ও পোশাকের পার্সেলের আড়ালে পাচার হওয়া বেশ কিছু পাসপোর্ট আটক করেছিল ফরাসি শুল্ক বিভাগ।
উদ্ধার করা মোবাইল ফোনে মানবপাচারের রুট, নথি ও সাংকেতিক ভাষার একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাচারকারীরা অভিবাসীদের অত্যন্ত অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধন করত এবং অর্থ আদায়ের জন্য তাদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করত। যুক্তরাজ্যের পোস্ট অফিসগুলোর মাধ্যমে পাঠানো অর্থের রসিদ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা এই চক্রের নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
লিভারপুল ক্রাউন কোর্টে দুই সপ্তাহের বিচার শেষে চক্রের মূল হোতা ভিন ভ্যান নগুয়েনকে সাড়ে ১২ বছর এবং কুয়াং ভ্যান নগুয়েনকে পৌনে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া বাকি তিন সদস্য ভ্যান হুই নগুয়েনকে সাত বছর দুই মাস, লিয়া চিয়েন ট্রং-কে ছয় বছর এবং সি ট্রাই হো-কে সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
#aknews #onebanglanews #মানবপাচার #যুক্তরাজ্যসংবাদ #আন্তর্জাতিকখবর















