কোভিড মোকাবেলায় ব্যর্থ যুক্তরাজ্য সরকার, তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

132

রুহুল আমিন: যুক্তরাজ্যে কোভিড মহামারী মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতিতে মারাত্মক ঘাটতি ছিল, যার ফলে বহু মানুষের মৃ*ত্যু হয়েছে—এমনটাই উঠে এসেছে দেশটির কোভিড তদন্তের প্রথম প্রতিবেদনে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা এই তদন্তে সাক্ষ্য দিচ্ছেন, যেখানে মহামারীর সময় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং তার পেছনের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জনসন মহামারীতে শিশু ও তরুণদের ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন, যা ব্রিটিশ রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

২০২২ সালের জুনে বরিস জনসন নিজেই এই পাবলিক ইনকোয়ারি বা তদন্ত শুরু করেন। এর নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক বিচারক ব্যারনেস হ্যালেট। তদন্তের উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাজ্য সরকার এবং স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রশাসন মহামারীর সময় কী ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং তার ফলাফল কী ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা। এই তদন্ত কাউকে দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করে না, তবে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করে।

তদন্তে সাক্ষ্য দিতে এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মহামারীর সময় মানুষের “যন্ত্রণা, ক্ষতি এবং দুর্ভোগের” জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে কিছু ভুল হয়েছিল এবং কিছু জিনিস ভিন্নভাবে করা উচিত ছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতে মন্ত্রীরা তাদের “সর্বোচ্চ চেষ্টা” করেছিলেন। অন্যদিকে, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক তার ‘ইট আউট টু হেল্প আউট’ প্রকল্পের পক্ষে কথা বলেছেন এবং এটি সংক্রমণ বাড়িয়েছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক এবং জনসনের সাবেক উপদেষ্টা ডমিনিক কামিংসের মতো ব্যক্তিদের সাক্ষ্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিশৃঙ্খলার চিত্র ফুটে উঠেছে। হ্যানকক সরকারের মধ্যে “বিষাক্ত সংস্কৃতি” থাকার কথা বলেছেন এবং কামিংস সরকারকে “অকার্যকর” বলে বর্ণনা করেছেন। এই তদন্তের চূড়ান্ত শুনানি ২০২৬ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে মহামারীর ভুল থেকে भविष्यের জন্য শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

#কোভিডতদন্ত #যুক্তরাজ্য #বরিসজনসন #মহামারী #কোভিড১৯