সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সম্পত্তি ও একটি গাড়িতে সন্দেহভাজন অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তৃতীয় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। ৩৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে পশ্চিম লন্ডনের চেলসি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় আরও দুজন আগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট নেতৃত্ব দিচ্ছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকালে চেলসিতে ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জীবন বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগের ষড়যন্ত্রের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই তদন্তে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ নেতৃত্ব দিচ্ছে। ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো স্টারমারের পরিবারের উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের বাড়িতে আগুন, যেটি তিনি তার শ্যালিকাকে ভাড়া দিয়েছেন। ১২ মে ভোরে ফায়ার সার্ভিস এই আগুনের খবর পুলিশকে জানায়। সম্পত্তির প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ আহত হয়নি।
এর চার দিন আগে, ৮ মে, স্টারমার গত বছর এক প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করা একটি গাড়িতে একই রাস্তায় আগুন দেওয়া হয়। ১১ মে, স্টারমার ১৯৯০-এর দশকে যে বাড়িতে থাকতেন, সেটি ফ্ল্যাটে রূপান্তরিত হওয়ার পর তার সামনের দরজায় ছোট আগুন লাগানো হয়। ফায়ার সার্ভিস এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ এই তিনটি ঘটনাকে সংযুক্ত বলে মনে করছে এবং তদন্ত চালাচ্ছে।
এর আগে, শনিবার ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আরও হেফাজতে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ২১ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় নাগরিক রোমান লাভরিনোভিচকে তিনটি অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির হয়ে কোনো দাবি করেননি। তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ৬ জুন ওল্ড বেইলিতে তার শুনানি হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনাগুলো গুরুতর এবং জীবন বিপন্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তে সহায়তার জন্য জনসাধারণের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই ঘটনাগুলো রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্টারমারের সম্পত্তি ও গাড়িতে হামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা, তা তদন্তে পরিষ্কার হবে। পুলিশ এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করেনি।
এই ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে এ ধরনের হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির নিরাপত্তা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। জনসাধারণের কাছে পুলিশের আহ্বান, যেকোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশের সঙ্গে শেয়ার করতে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















