ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে আবারও দুই পক্ষের তিক্ততা বাড়ছে

227

ওয়ানবাংলানিউজ: ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাথে ব্রিটেনের অন্য অংশের বাণিজ্য পদ্ধতি নিয়ে লন্ডন ও ব্রাসেলসের মধ্যকার সম্পর্কের তিক্ততা আবারও বাড়ছে। ব্রিটেনের অংশ হয়েও যেহেতু নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এখনও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু আইন মেনে চলে, সেহেতু ইংল্যান্ড, ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ড থেকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে কোনো পণ্য প্রবেশ করলে তা যাচাই-বাছাই হয়েই প্রবেশ করতে হয়।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যের বাজার বড় হয়েছে। কিন্তু ব্রেক্সিটের পর নতুন কিছু আইন-কানুন মানতে গিয়ে বাণিজ্য বাধাগ্রস্তও হচ্ছে। বেলফাসটের এই গার্ডেন সেন্টারকে আগের চেয়ে অনেক বেশী কাগজপত্র লেখালেখি, ফরম পূরণ এবং দলিল লেনদেন করতে হচ্ছে। ফলে সরবরাহ লাইনেও সৃষ্টি হয়েছে ধীর গতি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে আসার আগে ব্রিটেনের সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি হয়, ব্রিটেনের অন্যান্য স্থান থেকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে যে সকল পণ্য প্রবেশ করবে, সেগুলোর ওপর নজরদারি করা হবে, যাতে এসব পণ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত মান বজায় থাকে। এর কারণ হলো, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাথে স্থলসীমান্ত আছে আয়ারল্যান্ডের। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং দুই আয়ারল্যান্ডের মধ্যে উন্মুক্ত সীমান্ত বিরাজমান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায়না, মান নিয়ন্ত্রণহীন পণ্য ইউরোপের একক বাজারে প্রবেশ করুক। আর দুই আয়ারল্যান্ডের মধ্যে উন্মুক্ত সীমান্তও দুই দেশের শান্তি প্রক্রিয়ায় সম্পাদিত চুক্তিরই অংশ।

গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের এসেম্বলি নির্বাচনের ফলাফল চাপ আবারও বাড়িয়েছে। নির্বাচনে জয়লাভ করেছে শীন ফেইন। এই দল বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ব্রিটেনের সম্পাদিত চুক্তি বজায় থাকতে হবে। কিন্তু ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিসট পার্টির সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি না করলে শিন ফেইন সরকার গঠন করতে পারবেনা। আবার ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিসট পার্টি শর্ত দিয়ে বসেছে তারাও সরকার গঠনে শিন ফেইনকে সহায়তা করবেনা, যদিনা সেই বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা হয়। ব্রিটেনের এই মন্ত্রী ওয়াশিংটন সফরকালে বুধবার জানালেন, কেন এই বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করা প্রয়োজন।

ব্রিটিশ সরকার চায়, আরও সহজ ও মসৃণ বাণিজ্য ব্যবস্থা। প্রয়োজন হলে, যে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়েছে, তাঁর কিছু অংশ একপাক্ষিকভাবে বাতিল করার কথাও বলছে ব্রিটেন। একপাক্ষিকভাবে এমন কাজ করলে সামনে সমস্যাও দেখা দেবে।

ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষ মন্ত্রীরা বলছেন, আয়ারল্যান্ডের সাথে বাণিজ্যের এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সমস্যাটি সমাধানে অনেক বেশী বিলম্ব করা হচ্ছে। তাই নাটকীয় পদক্ষেপ হিসেবে ব্রিটেনের ভেতরেই আলাদা আইন তৈরি করে ব্রেক্সিট চুক্তির অংশবিশেষ অবজ্ঞা করার পথ তৈরি করে নিতে পারেন ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রীরা। আগামী সপ্তাহেই এই আইনটি প্রস্তাব আকারে উত্থাপিত হতে পারে। আর তা করা হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বাণিজ্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে ব্রিটেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ধরনের আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বৃহত্তর বিবাদে জড়িয়ে পড়ার বীজ বপন করা হবে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে ব্রিটিশ বাণিজ্যে।