সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্পিকার

3236

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্স-এর স্পিকার ও আইনপ্রণেতার (এমপি) পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জন বার্কো। পার্লামেন্টে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি বলেন, পরবর্তী নির্বাচন বা ৩১ অক্টোবর যেটাই আগে আসুক তখনই তিনি সরে দাঁড়াবেন। ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেওয়া এই স্পিকার বলেন, আগাম নির্বাচন না হলে ৩১ অক্টোবরই হবে সর্বনিম্ন ঐক্যবিনাশী ও সবচেয়ে বেশি গণতান্ত্রিক তারিখ। এই দিনই যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের (ব্রেক্সিট) সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ব্রেক্সিটপন্থীদের কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন এই স্পিকার। এছাড়াও হাউস অব কমন্সে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা না রাখায় সমালোচিত হয়েছেন তিনি।

ব্রেক্সিট ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের গত মে মাসে পদত্যাগের ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি সরে দাঁড়ানোর পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী বরিস জনসন। নির্বাচিত হওয়ার পর আগামী ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। প্রয়োজনে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট বাস্তবায়নেরও ইঙ্গিত দেন তিনি। গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) জনসন সরকারের ব্রেক্সিটনীতির বিরোধীরা পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব তোলেন। এই প্রস্তাবে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় চুক্তি চূড়ান্ত করতে ব্রেক্সিট আরও পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়। ওই প্রস্তাব পাস হলে হেরে যান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ভোটাভুটিতে হেরে যাওয়ার পর বরিস জনসন আগাম নির্বাচনের প্রস্তাব আনলেও তা খারিজ হয়ে যায়। আগামী ১৫ অক্টোবর আগাম নির্বাচন আয়োজনে সোমবার দ্বিতীয় দফায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভোটাভুটির কথা রয়েছে।

এর মধ্যেই সোমবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নিজের সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান জন বার্কো। ২০০৯ সালে মাইকেল মার্টিন প্রয়াত হলে হাউস অব কমন্স-এর নতুন স্পিকার নির্বাচিত হন ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের সাবেক এই এমপি। সোমবার পার্লামেন্টে তিনি বলেন, তার দশ বছর মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আর এই দায়িত্ব পালন করা তার কাছে ছিল বিপুল মর্যাদা আর সম্মানের। বার্কোর ঘোষণার সময়ে দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী স্যালি।

বিবিসি জানিয়েছে ব্রেক্সিটপন্থীদের কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন জন বার্কো। ইউরোপ ইস্যুতে তার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন ব্রেক্সিটপন্থীরা। তাদের দাবি, চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে আইনপ্রণেতাদের উদ্যোগে ভূমিকা রেখেছেন বার্কো। এছাড়া হাউস অব কমন্স-এ নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগ নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ভূমিকা না রাখা নিয়েও তার বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে। এমনকি নিজের কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে, তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।