হবিগঞ্জে শিক্ষকের বেতে চোখ হারাতে বসেছে ছাত্রী

75

সিলেট সংবাদদাতা: হবিগঞ্জে শিক্ষকের বেতের আঘাতে হাবিবা আক্তার (৮) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীর চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিশুকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

হাবিবা সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামের শাহিন মিয়ার মেয়ে এবং যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

এদিকে উক্ত ঘটনায় রোববার রাতে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। তাকে সোমবারের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, রোববার ক্লাস চলাকালে সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ তার হাতের একটি বেত ছুড়ে মারলে তা সরাসরি হাবিবার চোখে লাগে। এতে তার চোখ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে স্কুলে হৈ চৈ পড়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন হাবিবাকে দ্রুত উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মিঠুন রায় পরীক্ষার পর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটে প্রেরণ করেন। পরে তার স্বজনরা হাবিবাকে ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মিঠুন রায় জানান, বেতটি সরাসরি হাবিবার চোখের ভেতর আঘাত করায় তার চোখ খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখটি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এ ব্যাপারে সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ বলেন, ঘটনার সময় আমি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া নিচ্ছিলাম। এ সময় যারা পড়া পারছিল না তাদের টুকটাক বেত্রাঘাত করি। এ সময় ওই ক্লাসের দরজার সামনে কিছু শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে হৈ চৈ করছিল। আমি তাদের বারবার ধমক দিলেও তারা সেখানে দাঁড়িয়ে থাকলে হাতে থাকা বেত ছুড়ে মারি। তা গিয়ে হাবিবার চোখে লাগে। এটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল। ওই ছাত্রীকে ভালো চিকিৎসার যা প্রয়োজন হয় তা আমি করব।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এখন বিস্তারিত তথ্য নেয়ার এবং খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু জাফরকে দিয়ে এ কমিটি করা হয়। সোমবার সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়া জন্য বলা হয়েছে। তিনি তদন্ত করছেন।

তিনি বলেন, শুনেছি ওই শিক্ষক আহত ছাত্রীকে নিয়ে ঢাকায় গেছেন। তবে বেত দিয়ে আঘাত করার কোনো বিধানই নেই। শুধু তাই নয়, শ্রেণিকক্ষে বেত নিয়ে যাওয়ারও অনুমতি নেই। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।