হরমুজ প্রণালিতে ব্রিটিশ তেল ট্যাংকারকে ইরানের ধাওয়া

742

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরে একটি ব্রিটিশ তেল ট্যাংকারকে ধাওয়া দিয়েছেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্যরা। বুধবার পাঁচটি ইরানি বোট হরমুজ প্রণালির কাছে তেলবাহী ওই ব্রিটিশ জাহাজটিকে ধাওয়া দেয়।

তবে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হরমুজ প্রণালির উত্তর দিকের প্রবেশ মুখে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পাঁচটি বোট তেলবাহী জাহাজ ব্রিটিশ হ্যারিটেজকে থামতে বলে, কিন্তু একটি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ তাদের সতর্ক করলে তারা সরে পড়ে।

পারস্য উপসাগরে ব্রিটিশ তেল ট্যাংকারকে ধাওয়া করছে ইরানি বাহিনীপারস্য উপসাগরে ব্রিটিশ তেল ট্যাংকারকে ধাওয়া করছে ইরানি বাহিনী

 

ব্রিটিশ রয়েল নেভির কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পেন্টাগন জানায়, ইরানি সেনারা ব্রিটিশ তেল ট্যাংকারকে আটকানোর চেষ্টা করলে রয়েল নেভির পক্ষ থেকে তাদের সতর্ক করা হয়। সেখানে থাকা রাজকীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ওই বোটগুলোর দিকে বন্দুক তাক করে ওয়্যারলেসে তাদের সরে যেতে বলে, এর পর ইরানি বোটগুলো চলে যায়।

মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের এমন তৎপরতাকে হয়রানি এবং ওই প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার গ্রেইস-১ নামের একটি ইরানি সুপারট্যাংকার জব্দ করেছে ব্রিটিশ রয়েল নেভি। এ নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে ইরানের।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ইঙ্গিতেই ইরানি তেল ট্যাংকারটি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ আটকে রেখেছে। তবে ব্রিটেনের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরিয়ায় তেল বহন করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে জাবাল আল-তারিক থেকে ওই ট্যাংকারটি জব্দ করেছে তারা।

ট্যাংকার আটকের ঘটনায় ব্রিটেনকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হতে পারে বলে বুধবার হুশিয়ার করেছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

অন্যদিকে ইরানের হাতে আটক হওয়ার ভয়ে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের একটি সুপারট্যাংকার হরমুজ প্রণালীতে না ঢুকে সৌদি উপকূলে অবস্থান করছে।

‘ব্রিটিশ হেরিটেজ’ নামে ব্রিটেনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের ওই সুপার ট্যাংকারটি গত শনিবার থেকে সৌদি উপকুলে অবস্থান করছে।

ইরানের দাবি মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে। তা ছাড়া বিভিন্ন উত্তেজনার সময় প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেয় ইরান।

হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তেল রফতানি করা হয়। এ সমুদ্রপথটি ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল যায় এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে। হরমুজ প্রণালি মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে এ দেশগুলো এবং এর বাইরে তেল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।