ট্রাম্পের দুষ্ট বাণিজ্যছকে বিরামহীন যুদ্ধ শুরু হবে: পুতিন

    193

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাণিজ্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে হাতে হাত মিলিয়েছে রাশিয়া ও চীন। চীনা টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির কঠোর সমালোচনা করে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল বাণিজ্য যুদ্ধই নয়, বিশ্বকে সত্যিকারের যুদ্ধের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।

    ট্রাম্পের ‘অসৎ প্রতিযোগিতা’ একুশ শতকের প্রযুক্তি যুদ্ধকেই সম্ভাব্য করে তুলছে। শুক্রবার সেইন্ট পিটার্সবুর্গ ইকোনমিক ফোরামে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তার এ বক্তব্যকে চীন ও রাশিয়ার মধ্যে ‘চমৎকার সম্পর্কের’ নজির হিসেবেই দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

    কয়েকদিন আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন মস্কো ও বেইজিংয়ের বর্তমান সম্পর্ককে ইতিহাসের যে কোনো সময়ের মধ্যে ‘সবচেয়ে ভালো’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সেইন্ট পিটার্সবুর্গ ইকোনমিক ফোরামে রুশ প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘লাগামহীন অহমিকার’ অভিযোগ তোলেন। পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে রাশিয়ার কোম্পানির গ্যাস সরবরাহ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতারও সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘যে রাষ্ট্রগুলো এতদিন মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রসারে কাজ করে এসেছিল তারাই এখন বাণিজ্যযুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে। অ-বাজারি পদ্ধতিতে তারা এখন প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেয়ার কৌশল নিয়েছে।

    পুতিন আরও বলেন, ‘হুয়াওয়ের উদাহরণটাই দেখুন। তারা কেবল প্রতিষ্ঠানটিকে সংকুচিত করারই চেষ্টা চালাচ্ছে না, চেষ্টা করছে একে বিশ্ববাজার থেকে হটিয়ে দিতে। কিছু কিছু অঙ্গনে এরই মধ্যে একে ডিজিটাল যুগের প্রথম প্রযুক্তি যুদ্ধ হিসেবেও ডাকা শুরু হয়েছে।’ পুতিন এ ধরনের ‘আগ্রাসী আচরণের’ ফলাফল নিয়েও সতর্ক করেছেন। বলেন, ‘এটা অনিঃশেষ সংঘাত ও বাণিজ্য যুদ্ধের পথ। সম্ভবত এটি কেবল বাণিজ্য যুদ্ধেই থেমে থাকবে না। সত্যি করে বললে, এই পথ নিয়মনীতিবহির্ভূত এমন একটি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে, যেখানে সবাই সবার বিরুদ্ধে লড়বে।’

    পুতিনের বক্তব্যে কড়া ভাব থাকলেও চীনের প্রেসিডেন্টের সুর ছিল তুলনামূলক নরম। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ শিগগিরই কেটে যাবে বলেও আশাবাদ শুনিয়েছেন তিনি। শি বলেন, ‘আমরা (বিবাদে) আগ্রহী নই, আমাদের মার্কিন অংশীদাররাও সম্ভবত আগ্রহী নন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমার বন্ধু এবং তিনিও যে এরকমটা চান না সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত।’

    প্রেসিডেন্ট পুতিন ও শি বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্যের সমালোচনা করে বলেন, এই ব্যবস্থা ভেঙে দেয়ার লক্ষ্যে বেইজিং ও মস্কো নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা শক্তিশালী করবে।

    পুতিন বলেন, ওয়াশিংটন গোটা বিশ্বের ওপর তার আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। তিনি আমেরিকার ‘নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক যুদ্ধ’র তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য খর্ব করতেই হবে। রুশ প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সমর্থন করে শি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যে বিদ্যমান ‘বৈষম্য’ কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জাতি উন্নত জীবনযাপনের লক্ষ্যে যেভাবে জেগে উঠেছে তাদের সে আকাক্সক্ষাকে আর দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।