বিশ্বনাথে নিজ মৎস্য খামার থেকে আ’লীগ নেতার লাশ উদ্বার: দাফন সম্পন্ন

210

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথে নিজ মৎস্য খামারে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সদস্য ও এলাকার সালিশী ব্যক্তিত্ব আহমদ আলীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার দেওকলস ইউনিয়নের পুরাণ সৎপুর গ্রামস্থ আহমদ আলীর মৎস্য খামার থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। খুন হওয়া আহমদ আলী দক্ষিণ সৎপুর গ্রামের মৃত ওহাব উল্লাহর পুত্র।

বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আহমদ আলীর মৎস্য খামারের পুকুরের মধ্যে তার (আহমদ) লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় জনসাধারণ থানা পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষ করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়। ঘটনার পর থেকে মৎস্য খামারের প্রহরী সৎপুর খাসজান গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার পুত্র জমির হোসেন (৩০) পলাতক রয়েছে। আহমদ আলী খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খুনের ঘটনায় এলাকাবাসী ও পরিবারের সন্দেহের তীর দেওকলস ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাছুম আহমদ মারুফের দিকে রয়েছে।

সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী কারি কর্মকর্তা বিশ্বনাথ থানার এসআই দিদারুল আলম জানান, লাশের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও একাধিক যখম রয়েছে। তবে বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ দুলাল আকন্দ বলেন, প্রাথমিক ধারণায় মনে হচ্ছে আহমদ আলীকে খুন করা হয়েছে। এঘটনায় তার (আহমদ) পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।   

খুন হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আহমদ আলীর পরিবারের দাবী, এলাকার একটি শালিস বৈঠক ও মৎস্য আড়ৎ কমিটি গঠনের জের ধরেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে (আহমদ) দেওকলস ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাছুম আহমদ মারুফ গংরা মৎস্য খামারের প্রহরী জমির হোসেনের সাথে আতাত করে হত্যা করেছেন। পুকুর থেকে লাশ উদ্ধারের পর আহমদ আলীর সাথে থাকা মোবাইল ফোন, পায়ের জুতা, টর্চ লাইট ও পকেটে কোনা টাকা পাওয়া যায়নি বলে দাবী করেছেন পরিবার ও এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় টিকির বাজারে যান আহমদ আলী। এদিকে রাত ৮টার পর্যন্ত ১৪ বছরের ছেলে ইব্রাহিম বাড়িতে না ফেরায় আহমদ আলীর ভাতিজা তাকে বিষয়টি অবহিত করে মোবাইলে কথা বলেন। এরপর ইব্রাহিম বাড়িতে ফিরে আসলে আবার মোবাইলে আহমদ আলীর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে সেটি বন্ধ পান পরিবারের লোকজন। আহমদ আলীর মোবাইল বন্ধ পেয়ে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে আহমদ আলীকে খোঁজতে বের হন। আহমদ আলীর মৎস্য খামারসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তাকে না পেয়ে পুণঃরায় তার খুঁজে মৎস্য খামারে যান এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন। এসময় খোঁজাখুঁজি একপর্যায়ে পুকুরের পশ্চিম-দক্ষিণ কোনার দিকে তার লাশ দেখতে পান। এরপর তার থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

আহমদ আলী খুনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, তিনি (আহমদ আলী) ছিলেন এলাকার গরীব-দুঃখী মানুষের বিপদের কান্ডারী। বন্ধু সুলভ আচরণ ছাড়া তার কাছ থেকে কেউ কোন দিন কোন খারাপ আচরণ পাননি। এরকম মানুষকে কেউ খুন করতে পারে এটা বিশ্বাস করা যায় না। দ্রুত খুনীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরী।

 

বিশ্বনাথে খুন হওয়া আ’লীগ নেতা আহমদ আলীর দাফন সম্পন্ন

এদিকে নিহত আহমদ আলীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৬টায় উপজেলার সৎপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের মরদেহ দাফন করা হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা লুৎফুর রহমান ওসমানী।

আওয়ামী লীগ নেতা আহমদ আলীর জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এস এম নুনু মিয়া, বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম, পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ দুলাল আকন্দ, বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব পংকি খান, ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদাল মিয়া, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক, দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির আলী, দেওকলস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহিদ মিয়া, জেলা পরিষদের সদস্য সহল-আল রাজী, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান মহব্বত আলীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ।

জানাযার পূর্বে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নানান শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ ছুটে আসেন শেষ বারের মতো এলাকায় বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা ব্যক্তিটিকে শেষ বিদায় জানাতে। এলাকার গরীব-দুঃখী মানুষের কাছে সকল বিপদে-আপদের এক বিশাল আশা-ভরসার প্রতিক ছিলেন বলেই এলাকাবাসী আওয়ামী লীগ নেতা আহমদ আলীকে অশ্রুসিক্ত জলে শেষ বিদায় জানান। এসময় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করে জেলা ও উপজেলাসহ সর্বস্তরের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।