ভূমধ্যসাগরে বিশ্বনাথের নিখোঁজ চারজনের সেই দালাল লাপাত্তা

222

সিলেট সংবাদদাতা: লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সিলেটের চারজন নিখোঁজের ঘটনায় পালিয়েছেন দালাল রফিকুল ইসলাম রফিক (৪৮)। ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির পর থেকেই সপরিবারে বাড়ি ছেড়েছেন তিনি।

তিউনিসিয়ার উপকূলের কাছে গত ৯ মে রাতে নৌকাটি ডুবে যায়। ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী ওই নৌকা ডুবে নিহত ৬০ জনের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি।

সম্প্রতি ইতালি পাঠানোর কথা বলে কলেজ ছাত্রসহ চারজন যুবকের পরিবারকে ফুঁসলিয়ে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন দালাল রফিক।

ওই চারজন যুবক হচ্ছেন- বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের নওধার মাঝপাড়া গ্রামের ইলিয়াস আলীর পুত্র রেদুয়ানুল ইসলাম খোকন (২৪), দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়াহরি গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নানের পুত্র কলেজছাত্র আব্দুল মুমিন (২২), অলংকারি ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের আরশাদ আলী মাস্টারের পুত্র দিলাল হোসেন (২২) ও পালেরচক গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র মাছুম আহমদ (২৮)। তাদের মধ্যে তিনজনের কোনো সন্ধান অথবা মোবাইল ফোনে কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দালাল রফিকের ছেলে পারভেজ আহমদ লিবিয়ায় বসবাস করে আসছে। সে সুবাদে রফিক ইতালি পাঠানোর কথা বলে লোকজনের কাছে থেকে ফুঁসলিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন।

মাছুম আহমদের ছোট ভাই জানান, তার ভাই তিউনেশিয়ার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন বলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির পরদিন তার মোবাইল ফোনে একটি ভয়েস মেসেজ আসে। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিখোঁজ চারজনের পরিবারের স্বজনরা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে দালাল রফিকের মাধ্যমে নিখোঁজ খোকন, আব্দুল মুমিন, দিলাল হোসেন ও মাছুম আহমদকে অগ্রিম টাকা দিয়ে ঢাকা থেকে বিমানযোগে লিবিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে তাদেরকে প্রায় ৪-৫ মাস গেম রুমে রাখা হয়। পাশাপাশি চালানো হয় নির্যাতন।

সর্বশেষ ৭ মে দেশে থাকা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তাদের মোবাইল ফোনে কথা হয়। ওইদিন তারা পরিবারের লোকজনদেরকে জানায়, আজ তাদের গেম শুরু হবে। এরপর থেকেই তারা নিখোঁজ রয়েছেন। এ বিষয়ে নিখোঁজদের পরিবারের লোকজন দালাল রফিকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে রফিক বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। বন্ধ রয়েছে তার মোবাইল ফোনও।