পাচারকালে ১০ টাকা কেজির ২০০ বস্তা চাল আটক

115

ঢাকা সংবাদদাতা: জামালপুরের মেলান্দহে কালোবাজারে পাচারকালে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতাভুক্ত ২শ’ বস্তা সরকারি চাল আটক করেছে পুলিশ। প্রতিবস্তায় ৩০ কেজি হিসেবে মোট ৬ হাজার কেজি চাল পাচারের এই চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল দুপুরের দিকে জামালপুর-মাদারগঞ্জ রোডের তেঘরিয়া-ভাঙ্গুনীডাঙ্গা এলাকায় চালানটি জব্দ করা হয়। এসময় ঝাউগড়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে পাবেল আহমেদ আটক হয়।

জানা গেছে, হতদরিদ্রদের জন্য নামমাত্র মূল্যে এই চাল বিতরণের কর্মসূচির তেমন সুফল মিলছে না এক শ্রেণির অসাধু চক্রের কারণে। চাল বরাদ্দ পাওয়ার জন্য হতদরিদ্রদের তালিকা করে চাহিদাপত্র দিলে সেই অনুযায়ী সরকারি চাল পাওয়া যায়। তালিকায় ঠাঁই পাওয়া যোগ্য ব্যক্তিরা কার্ড দেখিয়ে ১০ টাকা কেজির এই চাল তুলতে পারেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, হতদরিদ্রদের অনেকে জানেই না যে তাদের নাম তালিকায় উঠিয়ে চাল আনা হয়েছে। ফলে তাদের নামে সস্তায় বরাদ্দ আনা বিপুল পরিমাণ চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গতকাল আটক হওয়া চাল পাচারকারিরা কোন ডিলারের কাছ থেকে পেয়েছে তা জানা যায়নি।

মেলান্দহ থানার ওসি গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হতদরিদ্রদের চাল কালোবাজারে চলে যাচ্ছে, এমন খবরে গোয়েন্দা (এনএসআই) এবং পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে চাউলসহ একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। চালগুলো ঝাউগড়া বাজার থেকে মেলান্দহ বাজারে পাচারের উদ্দেশ্যে ভটভটি যোগে নেওয়া হচ্ছিল। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মেলান্দহে ভিজিএফের চাল তছরুপের ঘটনা নতুন নয়। উপজেলায় এর আগেও একাধিকবার কালোবাজারে পাচার হওয়া ভিজিএফের চাল আটক হয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্টে ৩ মেট্রিকটন এবং ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ৩ মেট্রিকটন ভিজিএফের চাল উদ্ধার করা হয়েছিল।