‘কালো কাপড় পরা বন্দুকধারী মেশিনগান দিয়ে নামাজিদের গুলি করে’

778

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে দুটি মসজিদে এক বন্দুকধারী হামলা চালিয়েছে। দুপুরে স্থানীয় আল নুর মসজিদসহ আরেকটি মসজিদে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে মুসল্লিরা জুমার নামাজ পড়তে এসেছিলেন।

আল নুর মসজিদে বন্দুকধারীর হামলার ব্যাপারে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, এতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। আবার স্থানীয় গণমাধ্যম স্টাফ ডট কো জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ২৭ জন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মসজিদের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত অবস্থায় মানুষকে পড়ে থাকতে দেখেছেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনো কিছু বলা হয়নি। অনেককে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় আল নুর ও অপর একটি মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ পড়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক নারী ও তিন পুরুষসহ চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এ হামলাকে ‘দেশটির ইতিহাসে অন্যতম কালো দিন’ বলে অভিহিত করেছেন।

এদিকে নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও বর্তমানে হামলাস্থল ক্রাইস্টচার্চ শহরে রয়েছে। দুপুরে হ্যাগলি ওভাল মাঠে অনুশীলন শেষে তাদের আল নুর মসজিদেই নামাজ আদায় করতে যাওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন। তবে তাঁরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন। আগামীকাল শনিবার হ্যাগলি ওভাল মাঠে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ হামলার ঘটনায় তা বাতিল করা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড রিপোর্ট এক প্রতিবেদনে বলছে, হামলাকারীদের একজন অস্ট্রেলিয়ান বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি একজন চরম ডানপন্থী এবং অভিবাসনবিরোধী আদর্শে বিশ্বাস করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এর মধ্যেই বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁদের এই হামলার অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।

লেন পেনহা নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, একজন কালো কাপড় পরা ব্যক্তিকে তিনি মসজিদে ঢুকতে দেখেছেন এবং এর পরেই এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের শব্দ শোনেন। নিরাপত্তা বাহিনী মসজিদে আসার আগেই তিনি ওই বন্দুকধারীদের পালিয়ে যেতে দেখেন।

পেনহা আরো বলেন, ‘আমি সাহায্য করার জন্য মসজিদে যাই এবং ভেতরে অসংখ্য মৃত মানুষকে দেখি।’

জামায় রক্তের দাগসহ এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, তিনি বলেন, গুলিবর্ষণের সময় তিনি একটি বেঞ্চের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। ওই সময় মসজিদের ভবনে অন্তত ৫০ ব্যক্তি ছিলেন।

স্যাম ক্লার্ক নামে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে ছিলেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, ‘একজন কালো কাপড় ও মাথায় হেলমেট পরা ব্যক্তি মেশিনগান নিয়ে মসজিদের পেছন থেকে ঢুকে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে গুলিবর্ষণ করতে থাকেন।’

স্যাম ক্লার্ক আরো বলেন, ‘অনেকেই আতঙ্কে দরজা-জানালা দিয়ে বের হয়ে নিজেদের রক্ষা করেন। কিন্তু অনেকেই বের হতে পারেননি বিধায় হামলার শিকার হন।’

ক্লার্ক বলেন, ‘ঘটনার পর ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তিকে মসজিদের বাইরে দেখতে পাওয়া যায়, তাঁদের কেউ বেঁচে ছিলেন, কেউ ছিলেন মৃত।’

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য! আমি ২০ জন ব্যক্তিকে দেখেছি, তাঁদের কেউ ছিলেন মৃত, কেউ বা অনেক কাতরাচ্ছিলেন।’

আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমি মেঝেতে শতাধিক বুলেটের শেল দেখতে পাই। এবং দেখি একজন জানালা দিয়ে পালাতে চেষ্টা করতে গিয়ে গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।’

মোহন ইব্রাহিম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ডকে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম বিদ্যুতিক কোনো বিভ্রাটের কারণে বোধ হয় এরকম শব্দ হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখলাম লোকজন দৌড়াতে শুরু করেছে। সেখানে আমার এক বন্ধুও ছিল। তাঁকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাইনি। আমি তাঁর জন্য চিন্তিত।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্দুকধারীকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা।