ডাকসু নির্বাচনের আগের রাতে শতাধিক স্টাম্প উদ্ধার

283

ঢাকা সংবাদদাতা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোপার্জিত স্বাধীনতার (ডাস) দোকান থেকে শতাধিক ক্রিকেট স্টাম্প ও ব্যাট উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা আজ রোববার রাত ৮টা ২০ মিনিটে এসব উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাত ৮টার পর ডাসের দোকানে অভিযান চালায়। এর মধ্যে চারজন সদস্য দোকানের ভেতরে ঢোকেন। তাঁরা ক্রিকেট খেলার শতাধিক স্টাম্প ও ব্যাট উদ্ধার করেন। পরে সেগুলো নিয়ে প্রক্টর অফিসে যান।

দোকানের কর্মচারী পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থী এসে বলে যে, গোলাম রাব্বানী (ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক) ভাই এগুলো ভেতরে রাখতে বলেছেন। তাই আমরা রাখি। কিন্তু এতে কী আছে তা আমরা জানতাম না।’

প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্য জানান, রাত ৮টার দিকে দোকানে অভিযান চালানোর পর শতাধিক স্টাম্প ও ব্যাট উদ্ধার করেন প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা। এ সময় ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী এসে দোকানে থাকা লোকদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের কটু কথা বলে। তারা বলেন, এখানে কে রেখেছে তা না জেনে রাব্বানী ভাইয়ের নাম কেন করছ? তখন দোকানে থাকা একজন বলেন, আমরা যা জানি তাই বলছি। এখানে ছাত্ররা যদি কিছু রাখে তবে আমাদের কী করার আছে? তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে থামিয়ে দেন এবং গোলাম রাব্বানীর নাম না নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এদিকে, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা যখন এসব স্টাম্প নিয়ে যান তখন ছাত্রলীগের কিছু কর্মী এসে নিজেদের বাস কমিটির নেতা বলে পরিচয় দেন। তারাই এসব কিছু দোকানের মধ্যে রাখেন বলে স্বীকার করেন। তাদের মধ্যে চৈতালী বাসের সাবেক সভাপতি ও স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্র রাকিব হাওলাদার, হেমন্ত বাসের সভাপতি মোবারক, বৈশাখী বাসের সভাপতি শামীম এসব স্টাম্প রাখেন বলে জানান রাকিব।

জানতে চাইলে ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্র রাকিব হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ক্রিকেট খেলার জন্য এগুলো নিয়ে এসেছি।’

পাশ থেকে একজন প্রশ্ন করেন, কাল নির্বাচন উপলক্ষে স্টাম্প দিয়ে খেলা করবেন?

তখন রাকিব বলেন, সব হলেই খেলা করার জিনিস আছে। তাই আমরাও খেলা করার জন্য এগুলো এনেছি।

এসব স্টাম্প ও ব্যাটের বাজার মূল্য সাড়ে ২৯ হাজার টাকা বলে জানান রাকিব হাওলাদার।

এদিকে, ডাকসুর আচরণবিধির ১৪ নম্বর ধারায় আছে নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচন চলাকালে বিস্ফোরক, দেশীয় অস্ত্র (লাঠিসোটা, রড, হকিস্টিক, ছুরি-কাঁচি) ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বা অনুমোদিত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ দেশি অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম সেগুলো উদ্ধার করছে। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা শক্তহাতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

তবে এই ঘটনার মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে মনে করেন প্রার্থীরা। তাঁরা ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ আছে বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদের জিএস প্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এ আর এম আসিফুর রহমান বলেন, একটা গ্রুপ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য এসব কাজ করছে। এতে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করবে বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে আসার জন্য আহ্বান জানান।